জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সরকার সর্বত্রই ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। কোনো কিছুই তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এবার তারুণ্যের জয়জয়কার হবে এবং সেই নেতৃত্বের সম্মুখ সারিতে এনসিপি থাকবে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এনসিপিতে যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকারসহ কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তি এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন। নতুন যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল, কনটেন্ট নির্মাতা নুরুজ্জামান কাফি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী রেলের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের পরিচিত মুখ ও অ্যাকটিভিস্ট মহিউদ্দিন রনি মহিউদ্দিন রনি।
‘রাজনৈতিক নেতা ও নাগরিকদের এনসিপিতে যোগদান’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা ফুল দিয়ে তাদের বরণ করে নেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, সাংগঠনিক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এনসিপির নেতৃত্বে দেশের সাধারণ মানুষ আবারো নিজেদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হবে।
নতুন যোগদানকারীরাও দেশ ও জাতির অধিকার রক্ষায় এই রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ইসহাক সরকার বলেন, বর্তমান শাসকগোষ্ঠী আবারো ফ্যাসিবাদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলে আমরা রাজপথে নেমে আসবো। এনসিপির মাধ্যমেই মানুষ নিরাপদ থাকবে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমার বিশ্বাস।
বিদেশে অবস্থান করায় ফেরসামিন হক ইকবাল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। অন্যদিকে ইসহাক সরকার, নুরুজ্জামান কাফি ও মহিউদ্দিন রনিকে মঞ্চে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। পরে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নেতা মাকসুদুর রহমান সোহেলও অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এনসিপিতে অন্তর্ভুক্ত হন।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় নাহিদ ইসলাম বলেন, নতুন যোগদানকারীরা দলকে শক্তিশালী করবে এবং তরুণদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াবে। ইসহাক সরকারকে তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সহযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিনি দীর্ঘদিন বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন।
নাহিদ ইসলাম আরো বলেন, ইসহাক সরকারের নেতৃত্ব ও অবস্থান দলীয় কর্মীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হবে এবং তার সঙ্গে বহু অনুসারীর যোগদান দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করবে।
অনুষ্ঠানে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া এনসিপির অন্যান্য নেতারাও বক্তব্য দেন।
এর আগে গত ১৯ এপ্রিল বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের ৪৪ জন নেতা এনসিপিতে যোগ দেন, যা দলটির সম্প্রসারণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সানা/আপ্র/২৪/৪/২০২৬