নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একটি অনুষ্ঠানে হামলা ও মঞ্চ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দলটির নেতা-কর্মীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। হামলার জন্য ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের দায়ী করেছে এনসিপি, যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা।
শনিবার (৬ জুন) বিকেলে উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের কুলিয়াদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এনসিপির উদ্যোগে একটি অনুষ্ঠান ও ফল উৎসবের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্র জানায়, অনুষ্ঠান শুরুর আগ মুহূর্তে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রসহ অনুষ্ঠানস্থলে হামলা চালায়। তারা মঞ্চ ও প্যান্ডেল ভাঙচুর করে এবং বাধা দিতে গেলে এনসিপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে উপজেলা সংগঠক আল ফারাবী, জেলা কমিটির সদস্য সাখাওয়াত হোসেন তারেক, যুব সংগঠনের নেতা ইমনসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে একজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এনসিপির অভিযোগ, জেলা ছাত্রদলের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সুলতান মাহমুদের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, আগের রাতেও একই পক্ষ অনুষ্ঠানস্থলে হামলা চালিয়ে প্যান্ডেলের কাপড় ছিঁড়ে ফেলে এবং অনুষ্ঠান না করার হুমকি দেয়।
তবে সুলতান মাহমুদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
হামলার পর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ভাঙা মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, দলের নেতা-কর্মীদের ওপর আবারও হামলা হলে রাজনৈতিক সহাবস্থানের অবস্থান থেকে সরে আসবে এনসিপি। সন্ত্রাসীদের মোকাবিলা করার উপায় তাদের জানা আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, গণঅভ্যুত্থানের আগে ও পরে দল সংস্কার ও আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছে। রূপগঞ্জে হামলার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সহযোদ্ধারা আক্রান্ত হলে তিনি ঘরে বসে থাকতে পারেন না। নতুন কোনো গুণ্ডা বা সন্ত্রাসীকে ভয় পান না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আওয়ামী লীগ নেত্রী সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিনে মুক্তির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আওয়ামী লীগের বিচার নিয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরকার সরে এসেছে। একই সঙ্গে সীমান্ত হত্যা ও অনুপ্রবেশের বিষয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।
রূপগঞ্জে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারিও দেন এনসিপির এই নেতা।
এদিকে জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, আগের রাত থেকেই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন ছিল। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে তা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, এনসিপির পূর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। তবে অনুষ্ঠান শুরুর আগে কয়েকজন দুর্বৃত্ত মঞ্চের বাঁশ ভাঙচুর করে। পরে অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে এনসিপির জেলা কমিটির আহ্বায়ক যুবাইর সরদার, সাংগঠনিক সম্পাদক নিরব রায়হানসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সানা/আপ্র/৬/৬/২০২৬