সম্পত্তি হাতানোর উদ্দেশ্যে ১,৪০০ কিলোমিটার দূর থেকে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপিকাকে খুনের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান থেকে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
দিল্লির পূর্বাঞ্চলের বসুন্ধরা এনক্লেভ এলাকার সত্যম অ্যাপার্টমেন্টে বসবাসরত বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন শিবাজী কলেজে অধ্যাপনা করতেন দেবস্মিতা পাল। তিনি একাই ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। বিবাহবিচ্ছেদের পর ২০২২ সাল থেকে স্বামীর সঙ্গে তাঁর আলাদা বসবাস চলছিল, যিনি বেঙ্গালুরুতে থাকেন।
পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান শহরের বাদামতলা এলাকায় দেবস্মিতা পালের নানার বাড়ি থেকে রামপ্রসাদ দাস ও বনশ্রী দাস নামের ওই দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের নাবালক সন্তানকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কোটি টাকার সম্পত্তি দখলের লোভে দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই বাড়িটি জালিয়াতির মাধ্যমে দখলের পরিকল্পনা করছিল। দেবস্মিতা তাদের বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার বসুন্ধরা এনক্লেভের সাততলার ফ্ল্যাট থেকে দেবস্মিতার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার বোন দেবারতি দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দেহটি দেখতে পান। মাথায় গভীর আঘাত এবং হাতের শিরা কাটা অবস্থায় মরদেহ পাওয়া যায়।
তবে ঘটনাস্থল থেকে কোনো টাকা-পয়সা বা গয়না খোয়া যায়নি। এ কারণে পুলিশ ধারণা করে, এটি কোনো চুরি নয় বরং পূর্বপরিকল্পিত ব্যক্তিগত শত্রুতার হত্যাকাণ্ড।
ফ্ল্যাটের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুখে মাস্ক পরা অবস্থায় দম্পতি সিঁড়ি ভেঙে সাততলার ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে। প্রায় আধঘণ্টা ভেতরে অবস্থান করার পর তারা পোশাক পরিবর্তন করে নিচে অপেক্ষমাণ গাড়িতে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পুলিশ প্রথমে গাড়ির চালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। পরে চারটি রাজ্যে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে অবশেষে বর্ধমান থেকে অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়।
দিল্লি পুলিশের সাতটি দল টানা দুই দিন চিরুনিতল্লাশি চালিয়ে এই অভিযান সম্পন্ন করে। সূত্র: ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি
সানা/কেএমএএ/আপ্র/৮/৬/২০২৬