খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মান নিয়ে মানুষের সংশয় দূর করতে বাংলাদেশ মান ও পরীক্ষণ প্রতিষ্ঠানকে আরো শক্তিশালী করার কথা বলেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, ‘জিলাপি খেয়ে আতঙ্কে ভোগা’ স্বাভাবিক দেশের চিত্র হতে পারে না।
শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ মান ও পরীক্ষণ প্রতিষ্ঠান সদর দপ্তরের ‘মান ভবনে’ বিশ্ব পরিমাপ বিদ্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতি বছর ২০ মে বিশ্ব পরিমাপ বিদ্যা দিবস পালন করা হয়। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল- ‘নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় আস্থা নির্মাণে মেট্রোলজি’।
পণ্যের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, একটি সমাজ ও রাষ্ট্রকে টেকসই হতে হলে মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে হবে। আর সেই আস্থা গড়ে ওঠে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত পণ্যের মানের ওপর। খাদ্যপণ্য হোক বা অন্য কোনো প্রয়োজনীয় পণ্য, সেগুলো সঠিক মাপে, সঠিক পদ্ধতিতে উৎপাদিত হয়েছে কি না এবং নির্ধারিত মানদণ্ড বজায় রেখেছে কি না, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
এ প্রসঙ্গ ধরে আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “জিলাপি খাওয়ার সময়, আপনি যদি এক কামড় জিলাপি খান, আর সাথে আতঙ্কে ভোগেন, এটার মধ্যে ‘হাইড্রোজ’ আছে কি না; এটা তো একটা সুস্থ স্বাভাবিক দেশের অবস্থা হতে পারে না।”
বিপুল জনসংখ্যার এই দেশে পণ্যের মান তদারকিতে প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান জনবল অপ্রতুল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দেবে এবং একটি কার্যকর জনবল কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ জন্য ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশের মডেল পর্যালোচনা করে দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী তা পুনর্গঠন করা হবে।
বাংলাদেশ মান ও পরীক্ষণ প্রতিষ্ঠানের ল্যাবের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সকল পরিমাপের সঠিকতা ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক ওজন ও পরিমাপ ব্যুরো বিশ্বব্যাপী কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের জাতীয় পরিমাপ গবেষণাগারের একটি ল্যাব সম্প্রতি ওই আন্তর্জাতিক সংস্থার স্বীকৃতি অর্জন করেছে এবং তাদের আন্তর্জাতিক ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এটিকে দেশের জন্য ‘বড় স্বীকৃতি’ বলে অভিহিত করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
আলোচনা সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠানটির জনবল সংকট নিরসনে নতুন জনবল কাঠামোর প্রস্তাব ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি যৌক্তিকভাবে পুনর্বিবেচনার জন্য আবারো উপস্থাপন করা হয়েছে।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব ও বাণিজ্য সংগঠনের প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান, বাংলাদেশ মান ও পরীক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হক এবং পরিচালক (পরিমাপ বিদ্যা) মো. মাজাহারুল হক।
সানা/আপ্র/৬/৬/২০২৬