গ্লেন ফিলিপসের বিস্ফোরক ইনিংসে প্রতিপক্ষকে রান তাড়ার রেকর্ড গড়ার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ল নিউ জিল্যান্ড।
সেই লক্ষ্যে দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দিলেন সাঞ্জু স্যামসন। শ্রেয়াস আইয়ারের কার্যকর ইনিংসের পর শেষ দিকে ঝড় তুললেন নামান ধির। দারুণ জয়ে নিউ জিল্যান্ড সফর শুরু করল ভারত। ক্রাইস্টচার্চে ব্রিহস্পতিয়ার সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৪ উইকেটে জিতেছে ভারত। নিউ জিল্যান্ডের ২২৫ রান দুই বল বাকি থাকতে পেরিয়ে গেছে তারা।
টি-টোয়েন্টিতে রান তাড়া করে ভারতের সবচেয়ে বড় জয় ছিল অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে।
২০২৩ সালে ভিসাখাপাত্নামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এবং ২০২৬ সালে রায়পুরে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিল তারা। সব দল মিলিয়ে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়। ২০১৮ সালে অকল্যান্ডে ২৪৪ রান তাড়া করে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া।
ভারতকে জয়ের ভিত গড়ে দেন স্যামসন।
ইনিংস শুরু করতে নেমে চারটি ছক্কা ও আটটি চারে ৩৩ বলে ৬৭ রান করেন তিনি। দুই ছক্কা ও একটি চারে ২৮ বলে ৪২ রান আসে শ্রেয়াসের ব্যাট থেকে। ১৫ বলে ৪২ রান করে দলের জয় সঙ্গে নিয়ে ফেরেন নামান। দুটি ছক্কা ও পাঁচটি চারের ইনিংসটি খেলে ম্যাচ সেরাও হন তিনি।
ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের দাপটে বিফলে গেল ফিলিপসের তিনটি ছক্কা ও আটটি চারে সাজানো ৮২ রানের অপরাজিত ইনিংস।
২৪ বলে ৪৫ রান করতে দুটি ছক্কা ও পাঁচটি চার মারেন কিউইদের ওপেনার ফিন অ্যালেন। দায় আছে নিউ জিল্যান্ডের ফিল্ডারদেরও। ম্যাচ অন্তত তিনটি ক্যাচ নিতে পারেননি তারা।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা নিউ জিল্যান্ডকে ভালো শুরু এনে দেন টিম সাইফার্ট ও অ্যালেন।
প্রথম চার ওভারে ৪৬ রান তোলেন দুই ওপেনার। পঞ্চম ওভারের শেষ বলে সাইফার্টের বিদায়ে ভাঙে ৪৯ রানের উদ্বোধনী জুটি। মুখোমুখি প্রথম বলে আকসার প্যাটেলকে ছক্কায় রানের খাতা খোলেন ড্যারিল মিচেল। ভারতীয় স্পিনারের পরের ওভারে ছক্কায় ওড়ান অ্যালেনও। কিন্তু দুই বল পর আবার উড়িয়ে মেরে লং-অনে ধরা পড়েন তিনি।
এরপর দ্রুত রান বাড়াতে থাকেন ফিলিপস। লং-অনে মিচেলের ক্যাচ ছাড়েন আভিশেক।
১৬ রানে জীবন পেয়ে মায়াঙ্ক ইয়াদাভকে টানা দুটি চার হাঁকান মিচেল। ত্রয়োদশ ওভারে তাকে বিদায় করেন আর্শদিপ সিং। ক্রিজে গিয়েই প্রথম বলে ছক্কায় ওড়ান বেভন জ্যাকবস। আকসারকে টানা তিনটি চার মারেন ফিলিপস। মায়াঙ্ককে ছক্কায় উড়িয়ে ২৭ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন তিনি। ওই ওভারে আরেকটি ছক্কা মারেন জ্যাকবস।
আর্শদিপকে চার মারার পরের বলে রান আউট হন জ্যাকবস। ভাঙে ৩৩ বল স্থায়ী ৭৩ রানের জুটি।
এরপর মাইকেল ব্রেসওয়েলের সঙ্গে ফিলিপসের অবিচ্ছিন্ন ৩০ রানের যুগলবন্দিতে সোয়া দুইশ পর্যন্ত যায় নিউ জিল্যান্ডের রান। প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টিতে ভারতের পাঁচ বোলারই চল্লিশ বা তার বেশি রান দেন। পুরুষদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এমনটা দেখা গেল ত্রয়োদশবার।
বড় লক্ষ্য তাড়ায় যেমন শুরুর প্রয়োজন ছিল, ঠিক তেমনই ব্যাটিং করেন স্যামসন ও আভিশেক।
চার দিয়ে রানের খাতা খোলেন স্যামসন। মুখোমুখি প্রথম বলে ছক্কায় ওড়ান আভিশেক। অ্যাডাম মিল্নকে টানা দুটি চার মারার পর লকি ফার্গুসনের ওভারে দুটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান তিনি। মিল্নের পরের ওভারে দুটি করে চার ও ছক্কা মারেন আভিশেক।
ষষ্ঠ ওভারে ব্রেসওয়েলকে ছক্কা ও চারের পর সিঙ্গল নিয়ে ২৩ বলে ফিফটি করেন স্যামসন। পরের বলে শর্ট থার্ডম্যানে ধরা পড়েন ১২ বলে ২৯ রান করা আভিশেক।
ভাঙ্গে ৯৩ রানের জুটি। টানা তিন ওভারে স্যামসন, তিলাক ভার্মা ও ইশান কিষানকে হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ভারত। আকসার ও শ্রেয়াসের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে তারা। ১৪ বলে ২৪ রান করে ফেলেন আকসার।
নামান ধির এসে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দলের রান দ্রুত বাড়াতে থাকেন।
স্যান্টনারকে ছক্কা ও চারের পর ন্যাথান স্মিথকে টানা দুটি চার মারেন তিনি। ১৯তম ওভারের প্রথম বলে শ্রেয়াস বিদায় নেন। নিতিশ কুমার রেড্ডিকে নিয়ে বাকি পথ পাড়ি দেন নামান। ম্যাট হেনরিকে ছক্কায় উড়িয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। একই মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ আগামী শনিবার।
ডিসি/ আপ্র/২২/১০/২০২৬