প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগে শুরুতেই বার্সেলোনাকে এগিয়ে নিলেন লামিন ইয়ামাল। পাল্টা আক্রমণে কয়েকবার সমতায় ফেরার খুব কাছে গেল অ্যাস্টন ভিলা। জমে উঠল লড়াই। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে আরেকটি গোল হজমের পর আর পাত্তা পেল না ইংলিশ ক্লাবটি। দারুণ জয়ের আনন্দে মাঠ ছাড়ল হান্সি ফ্লিকের দল।
কাম্প নউয়ে মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচটি ৩-০ গোলে জিতেছে বার্সেলোনা। দ্বিতীয়ার্ধে জোড়া গোল করেছেন অধিনায়ক হাফিনিয়া। আগের রাউন্ডে পিএসজির মাঠে ৪-২ গোলে হেরেছিল বার্সেলোনা। পরে লা লিগায় ফিরে তারা ক্লাসিকোয় হেরে যায় রেয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে।
দুই দিন আগে আলাভেসকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে ঘরোয়া লিগে জয়ে ফেরার পর, এবার ইউরোপ সেরার মঞ্চেও জয়ের পথে ফিরল স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা। এই জয়ে পয়েন্ট তালিকায় নবম থেকে এল লাফে দ্বিতীয় স্থানে উঠেছে বার্সেলোনা। চার ম্যাচে তিন জয়ে আরও পাঁচ দলের সমান ৯ পয়েন্ট তাদের। সমান পয়েন্ট নিয়ে বার্সেলোনার পরই আছে ভিলা। টানা তিন জয়ের পর আসরে প্রথম হারের স্বাদ পেল উনাই এমেরির দল।
ম্যাচে বল দখলের পাশাপাশি আক্রমণেও এগিয়ে ছিল বার্সেলোনা। গোলের জন্য ১৫ শটের ছয়টি লক্ষ্যে রাখতে পারে তারা। ভিলার সাত শটের চারটি লক্ষ্যে ছিল। স্পেনে সম্প্রতি ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ও সোমবার দ্বিতীয় বিভাগের ম্যাচে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর হাসপাতালে মারা যাওয়া ফুটবলার হেসুস দে মিয়েলের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় ম্যাচ শুরুর আগে।
ম্যাচ শুরুর আগে থেকে ছিল বৃষ্টি। পঞ্চম মিনিটে প্রথম আক্রমণ শাণায় বার্সেলোনা। ইয়ামালের চমৎকার পাস খুঁজে নেয় ফের্মিন লোপেসকে। তার পাসে বক্সে অ্যান্থনি গর্ডনের শট আটকে দেন ভিলার এক ডিফেন্ডার।
পরের মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে হাফিনিয়ার ফ্রি-কিক লক্ষ্যে থাকেনি। এরপরই বার্সেলোনার তীব্র চাপের মুখে পড়ে বক্সে ইয়ামালকে বল দিয়ে বসেন ভিলার মিডফিল্ডার জুয়াও গোমেজ। একটু জায়গা বানিয়ে প্রতিপক্ষের দুই খেলোয়াড়ের মাঝ দিয়ে বাঁ পায়ের শটে জালে পাঠান বিশ্বকাপজয়ী তারকা।
এর মধ্য দিয়ে কিলিয়ান এমবাপেকে (১৩) ছাড়িয়ে ২০ বছর বয়সের আগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড নিজের করে নিলেন ইয়ামাল (১৪টি)। এই তালিকায় তিন নম্বরে আছে আর্লিং হলান্ড (১০টি)। নবম মিনিটে দুটি ভালো সুযোগ পায় ভিলা।
প্রথমে ম্যাটি ক্যাশের জোরাল ভলি পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়, এরপর গোমেজের প্রচেষ্টা রুখে দেন বার্সেলোনা ডিফেন্ডার জুয়াও কান্সেলো। অষ্টাদশ মিনিটে আরেকটি সুযোগ নষ্ট করে সফরকারীরা।
নিকোলাস জ্যাকসনের পাস পেনাল্টি স্পটের কাছাকাছি পেয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন জোয়ান মানজাম্বি। দুই মিনিট পর পোস্ট ছেড়ে ডি-বক্সের অনেকটা বাইরে এসে জ্যাকসনের সামনে থেকে বল বিপদমুক্ত করেন বার্সেলোনা গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়া।
২৫তম মিনিটে গোলরক্ষক সুজুকির ভুলে বিপদে পড়তে বসেছিল ভিলা।
ছোট পাসের চেষ্টায় প্রতিপক্ষের পায়ে বল তুলে দেন তিনি। কাছ থেকে গর্ডনের নেওয়া শট অবশ্য আটকে দেন জাপানের এই গোলরক্ষক। ৩১তম মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে মানজাম্বির শট ফিরিয়ে দেন গার্সিয়া। প্রথমার্ধের শেষ দিকে পাউ কুবার্সির পা মাড়িয়ে দিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন জ্যাকসন।
দ্বিতীয়ার্ধের সপ্তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হাফিনিয়া। লোপেসের পাস বক্সের মুখে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ভেতরে ঢুকে প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারের বাধা এড়িয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি।
৬৪তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলে ব্যবধান আরও বাড়ান হাফিনিয়া। বাঁ দিকে প্রতিপক্ষের একজনের চ্যালেঞ্জ সামলে এগিয়ে চমৎকার এক পাস দেন কান্সেলো, আর ছুটে গিয়ে ছয় গজ বক্সের মুখ থেকে প্রথম স্পর্শে জালে পাঠান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তিন ম্যাচে হাফিনিয়ার গোল হলো চারটি। আর মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৩ ম্যাচে তার গোল এখন ১৯টি। শেষ দিকে ইয়ামালের চমৎকার শট ঝাঁপিয়ে পড়া গোলরক্ষকের হাত ছুঁয়ে বাইরে গেলে ব্যবধান আর বাড়েনি।
ডিসি/আপ্র/৪/১১/২০২৬