সৌহার্দ্য-সম্প্রতির চিত্র ফুটে উঠল শুরুতেই। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের খেলোয়াড়েরা মেলালেন হাত। ক্রিকেটসহ নানা খেলায় যে দৃশ্য সম্প্রতি দেখাই যাচ্ছিল না। এরপর শুরু হলো মাঠের লড়াই।
‘দ্বিতীয় সারি’র দল নিয়ে আসা ভারতের সামনে কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারছিল না পাকিস্তান।
প্রথমার্ধে হজম করল তিন গোল। কোণঠাসা সেই পাকিস্তানই ম্যাচ জমিয়ে তুলল দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে। কিন্তু সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপধারী ভারতের বিপক্ষে হার এড়াতে পারল না তারা।
পল্টনের জাতীয় স্টেডিয়ামে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের পঞ্চদশ আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে বৃহস্পতিবার পাকিস্তানকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে ভারত।
সুহাইল আহমেদ ভাটের জোড়া গোলের পর, জালের দেখা পান মাংলেংথান কিপগেন। শেষ দিকে নাজিব উল্লাহ ও আলমগীর আলি খান গাজীর গোলে ম্যাচ জমিয়ে তুলেছিল পাকিস্তান।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ থাকায় সাফে ভারত খেলতে এসেছে যুব দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় নিয়ে। সেই তরুণদের দ্যুতিময় পারফরম্যান্সে দিশেহারা পাকিস্তান। ২০০৩ সালের সাফে ঢাকাতে পাওয়া সেই ১-০ জয়ের স্মৃতির পুনরাবৃত্তি করতে পারল না তারা।
সাফে এ নিয়ে দুই দলের দেখা হলো ১০বার। এরমধ্যে ভারত জয়ী আট ম্যাচে।
বাকি দুই ম্যাচের মধ্যে একটি ড্র; অন্যটি ২৩ বছর আগে ঢাকায় পাওয়া পাকিস্তানের সেই জয়।
গোছালো ফুটবলে শুরু থেকে বলের নিয়ন্ত্রণ নেয় ভারত। বিশেষ করে সুহাইল শাণাতে থাকেন একের পর এক আক্রমণ। দ্বাদশ মিনিটে সতীর্থের পাস বুক দিয়ে নামিয়ে কোনাকুনি শটে সুহাইল জালে বল জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোল হয়নি।
পরের মিনিটে সুহাইলের গোলেই এগিয়ে যায় প্রতিযোগিতার রেকর্ড নয়বারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। মুহাম্মেদ উভাইস মইকালের আড়াআড়ি ক্রস থেকে নিখুঁত শট লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।
পাকিস্তানের উপর চাপ ধরে রেখে ১৯তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে নেয় ভারত।
আভিষেক ধনাঞ্জয়ের থ্রু পাস অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে, গোলকিপারের পাশ দিয়ে জাল খুঁজে নেন সুহাইল।
৩২তম মিনিটে এন নওশাদের থ্রু পাসে কিপগেনের শটে পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসেও আটকাতে পারেননি ইউসুফ ইজাজ বাট। বল পাকিস্তান গোলকিপারের পায়ে লেগে জালে জড়ায়।
দুই মিনিট পর বক্সে হায়ান খাট্টাককে ফাউল করেন আভিষেক ধানাঞ্জয়। পেনাল্টি পায় পাকিস্তান। পোস্টের বাইরে উড়িয়ে মেরে হতাশ করেন শায়েক দোস্ত। ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ হারিয়ে পাকিস্তান হয়ে যায় আরও এলোমেলো।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ব্যবধান বাড়ত পারত আরও। বাম দিক দিয়ে বল পায়ে বক্সে ঢুকে পড়েন মোহাম্মেদ সুহাইল।
কিন্তু বলে তার শেষ স্পর্শ জোরে হওয়ায় শটই নিতে পারেননি তিনি। ৬০তম মিনিটে হাসান আলির শট পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে আটকান ইজাজ ভাট।
এরপর সময় যত গড়াতে থাকে, কমতে থাকে দুই দলের খেলার গতি। জয় অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় ভারতের ছিল না ব্যবধান বাড়ানোর তাড়া। তবে, পাকিস্তানের চেষ্টা ছিল ব্যবধান কমানোর।
৮৪তম মিনিটে সুযোগ এসে যায় পাকিস্তানের সামনে। নাজিব ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন।
ভারত গোলকিপার আরশ আনোয়ার শেখ কাছের পোস্টে পথ আগলে দাঁড়িয়ে রুখে দেন তার শট।
দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে নাটকীয়ভাবে বদলে যায় ম্যাচের দৃশ্যপট। দ্বিতীয় মিনিটে জুনায়েদ আহমেদ শাহ’র বাম দিকে বক্সে ক্রস বাড়ান। দুই মার্কারকে এড়িয়ে অনেকটা লাফিয়ে উঠে হেডে জাল খুঁজে নেন নাজিব।
শেষ মুহূর্তে দৃষ্টিনন্দন গোলে ব্যবধান আরও কমায় পাকিস্তান। অ্যারন আব্দুল্লাহার পাস বুটের টোকায় একটু উপরে তুলে, অনেকটা শুয়ে পড়া অবস্থায় সাইডভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন আলমগীর। তাতে স্কোরলাইন হয় ৩-২। এরপরই বাজে শেষের বাঁশি!
ডিসি/ আপ্র/০৫/১১/২০২৬