শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত পাল্টেছে সমীকরণ, দুলেছে তিন দলের ভাগ্য। যোগ করা সময়ের রুদ্ধশ্বাস নাটকের পর ৩-৩ গোলের ড্রয়ে নকআউট নিশ্চিত করেছে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়া। আর শেষ মুহূর্তে ভেঙেছে ইরানের স্বপ্ন। ৪৪ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে অস্ট্রিয়া, আর সেরা তৃতীয় দলগুলোর একটি হিসেবে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছে আলজেরিয়া।
রোববার (২৮ জুন) ক্যানসাস সিটিতে ‘জে’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে দুই দলের ড্রই ছিল নকআউট নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট। তবে ম্যাচটি নিছক সমঝোতার ড্র নয়, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত রোমাঞ্চে ভরা এক নাটকীয় লড়াইয়ে পরিণত হয়।
প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ সমতায়। দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম ১৫ মিনিটেই আরও দুটি গোল হয়। এরপর ম্যাচের গতি কিছুটা কমে এলেও যোগ করা সময়ে শুরু হয় আসল নাটক।
যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে রিয়াদ মাহরেজ গোল করে আলজেরিয়াকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নিলে অস্ট্রিয়ার বিদায় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়। সেই সঙ্গে নকআউটে ওঠার আশা জেগে ওঠে ইরানের। কিন্তু ৯৫তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামানো হয় ছয় ফুট সাত ইঞ্চি উচ্চতার ফরোয়ার্ড সাশা কালাইজিচকে। এক মিনিট পরই মিশাইল গ্রেগোরিচের হেড থেকে আসা বলে কালাইজিচের হেডে সমতা ফেরায় অস্ট্রিয়া। ৩-৩ গোলের এই ড্রয়েই নিশ্চিত হয় দুই দলের নকআউট, আর শেষ হয়ে যায় ইরানের বিশ্বকাপ অভিযান।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে লড়াই। দশম মিনিটে ইব্রাহিম মাজা ভালো সুযোগ পেলেও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। ২০ মিনিটের পর খেলার নিয়ন্ত্রণ নেয় আলজেরিয়া। তবে ২৮তম মিনিটে ডেভিড আলাবার দীর্ঘ পাস থেকে মার্কো আর্নাউতোভিচ গোল করে অস্ট্রিয়াকে এগিয়ে দেন। ৩৭ বছর বয়সে এটি ছিল বিশ্বকাপে তার প্রথম গোল।
গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে আলজেরিয়া। ৪০তম মিনিটে ফারেস শেইবির দূরপাল্লার শট পোস্টে লাগে। দুই মিনিট পর মাজার ভলি ঠেকিয়ে দেন অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেকসান্দার শ্লাগা। প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে দুর্দান্ত বাঁ পায়ের শটে সমতা ফেরান রাফিক বেলঘালি।
৫৫তম মিনিটে কনরাড লাইমারের পাস থেকে মার্সেল জাবিতজার গোল করে আবারও এগিয়ে দেন অস্ট্রিয়াকে। তবে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই হুসেম আওয়াহর বাড়ানো বল থেকে ফাঁকা জায়গায় দারুণ ফিনিশিংয়ে সমতা ফেরান মাহরেজ। বিশ্বকাপে এটি ছিল তার প্রথম গোল।
৯০ মিনিট পর্যন্ত আর বড় কোনো সুযোগ তৈরি না হলেও যোগ করা সময়ে মাহরেজ নিজের দ্বিতীয় গোল করে আলজেরিয়াকে আবার এগিয়ে দেন। তখন মনে হচ্ছিল, ইরানের নকআউটের পথ খুলে গেছে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বাঁ দিক থেকে আসা লম্বা বলে গোললাইন ছাড়ানোর আগে হেড করে বল ভেতরে রাখেন মিশাইল গ্রেগোরিচ। সেই বল থেকে অনায়াস হেডে জাল খুঁজে নেন সদ্য মাঠে নামা কালাইজিচ। তার গোলেই ৪৪ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার আনন্দে ভাসে অস্ট্রিয়া।
এই ম্যাচে মাঠে না থাকলেও ইরানের ভাগ্য নির্ভর করছিল আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়া লড়াইয়ের ওপর। ড্র ছাড়া অন্য কোনো ফল হলেই নকআউটে উঠত তারা। দিনের অন্য ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে উজবেকিস্তানের পরাজয়ের পর অনুশীলন বাতিল করে এই ম্যাচের দিকেই তাকিয়ে ছিল ইরান। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আশা জাগলেও কালাইজিচের গোলে ভেঙে যায় সেই স্বপ্ন।
এর আগে মিশরের বিপক্ষে জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও মিলিমিটারের ব্যবধানে অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হওয়ায় হতাশ হতে হয়েছিল ইরানকে। এবার অন্য ম্যাচের শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় তাদের বিশ্বকাপ যাত্রারও ইতি ঘটল।
গ্রুপে দ্বিতীয় হয়ে নকআউটে ওঠা অস্ট্রিয়ার প্রতিপক্ষ স্পেন। সেরা তৃতীয় দলগুলোর একটি হিসেবে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠা আলজেরিয়া খেলবে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে। গ্রুপসেরা আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে।
সানা/আপ্র/২৮/৬/২০২৬