কিলিয়ান এমবাপের জোড়া গোল, মাইকেল ওলিসের দুই গোলে অবদান এবং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দাপুটে ফুটবলে সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোরে অনুষ্ঠিত শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে দিদিয়ে দেশোঁর দল এমন আধিপত্য দেখিয়েছে, যাতে এক সময় সুইডেন কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে।
এমবাপের জোড়া গোলের সঙ্গে একটি গোল করেন ব্র্যাডলি বার্কোলা। তবে গোল না করেও ম্যাচের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ছিলেন ওলিসে। দুটি গোলের যোগান দেওয়ার পাশাপাশি তার একটি দৃষ্টিনন্দন বাইসাইকেল কিক এবং এমবাপের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। অন্যদিকে সুইডেনের গোলরক্ষক ইয়াকুব ভিদেল জেততেরস্ত্রুম একের পর এক দুর্দান্ত সেভ না করলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।
ম্যাচের শুরুতেই আলেকসান্দার ইসাক একটি সুযোগ পেলেও এরপর আক্রমণের লাগাম পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় ফ্রান্স। ৬১ শতাংশ বলের দখল রেখে গোলের উদ্দেশে ২৫টি শট নেয় তারা, যার ১২টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে সুইডেনের ৮টি শটের মধ্যে লক্ষ্যে ছিল মাত্র ৩টি।
২১তম মিনিটে ওলিসের পাস থেকে এমবাপে বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। এরপর ৩২তম মিনিটে জুল কুন্দের কাটব্যাক থেকে এমবাপের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। পাঁচ মিনিট পর ওলিসের অসাধারণ বাইসাইকেল কিকও পোস্টে আঘাত হানে।
তবে বিরতির ঠিক আগে গোলের দেখা পায় ফ্রান্স। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ওলিসে ও উসমান দেম্বেলের পাস ধরে বক্সে প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে বাঁকানো জোরালো শটে জাল কাঁপান এমবাপে। গোল করার পর তিনি ছুটে গিয়ে কোচ দিদিয়ে দেশোঁকে জড়িয়ে ধরে উদযাপন করেন। মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে দেশে ফেরায় গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ডাগআউটে ছিলেন না ফ্রান্সের এই কোচ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফ্রান্স। ৫৩তম মিনিটে ওলিসের নিখুঁত পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জোরালো শটে গোল করেন বার্কোলা। এরপরও একের পর এক আক্রমণে সুইডেনের রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত রাখে ফরাসিরা।
৭৪তম মিনিটে আবারও ওলিসের পাস থেকে বক্সের ভেতরে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে শক্তিশালী শটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোল করেন এমবাপে। নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মিনিট আগে এমবাপে ও ওলিসেকে একসঙ্গে তুলে নেন দেশোঁ। শেষ দিকে সুইডেন দুটি শট লক্ষ্যে রাখলেও গোলরক্ষক মাইক মিয়াঁকে পরাস্ত করতে পারেনি।
এই জয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা পাঁচ ম্যাচে অন্তত তিনটি করে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েছে ফ্রান্স।
ব্যক্তিগত অর্জনের খাতায়ও নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছেন এমবাপে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ১০ গোল করে তিনি ব্রাজিলের লেওনিদাস ও রোনালদোকে ছাড়িয়ে গেছেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে মোট ১৮ গোল নিয়ে তিনি এখন এককভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা। তার ওপরে আছেন শুধু লিওনেল মেসি, যার গোলসংখ্যা ১৯। চলতি আসরে ৬ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকাতেও মেসির সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে উঠেছেন ফরাসি অধিনায়ক।
কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে।
সানা/আপ্র/১/৭/২০২৬