গ্যালারিজুড়ে ৮০ হাজার ৮২৪ দর্শকের গর্জন, শুরুর আগে বজ্রঝড়ে এক ঘণ্টার বিলম্ব, তারপর মাঠে স্বাগতিক মেক্সিকোর দাপুটে ফুটবল। হুলিয়ান কিনোনেস ও রাউল হিমেনেসের প্রথমার্ধের দুই গোলে ইকুয়েডরকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে চার দশকের নকআউট-অভিশাপ ভেঙে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে মেক্সিকো।
বাংলাদেশ সময় বুধবার (১ জুলাই) সকালে মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শেষ বত্রিশের ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে স্বাগতিকরা। এই জয়ে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের পর প্রথমবার নকআউট পর্বের ম্যাচ জিতল মেক্সিকো। সে সময় নিজ দেশের মাটিতে শেষ ষোলোয় বুলগেরিয়াকে একই ব্যবধানে হারিয়েছিল তারা। বর্তমান কোচ হাভিয়ের আগিরে সেই দলেরই একজন সদস্য ছিলেন।
১৯৯৪ সাল থেকে টানা সাতটি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে পরের ধাপেই বিদায় নিতে হয়েছিল মেক্সিকোকে। এবার সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটল।
বজ্রঝড়ের কারণে নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর শুরু হয় ম্যাচ। শুরু থেকেই দ্রুতগতির আক্রমণে ইকুয়েডরের রক্ষণকে চাপে রাখে মেক্সিকো। ষষ্ঠ মিনিটে লুইস রোমোর শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। পরের মিনিটে তার ক্রস থেকে রাউল হিমেনেসের হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
প্রথম ১০ মিনিটের চাপ সামলে কিছুটা গুছিয়ে ওঠে ইকুয়েডর। ১৮তম মিনিটে গন্সালো প্লাতা প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে জন ইবোয়াকে বল বাড়ান। তার শক্তিশালী শট পোস্টে লেগে বাইরে চলে যায়।
সুযোগ হাতছাড়া করলেও চার মিনিট পরই এগিয়ে যায় মেক্সিকো। নিজেদের অর্ধ থেকে হেসুস গাইয়ার্দোর নিখুঁত পাস ধরে বাম প্রান্ত দিয়ে দ্রুত এগিয়ে যান হুলিয়ান কিনোনেস। বক্সের ভেতরে ঢুকে দুর্দান্ত শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।
৩১তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাউল হিমেনেস। ইকুয়েডরের ডিফেন্ডার জোয়েল ওর্দানেসের ভুল পাস কাড়ার পর কিনোনেসের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে দারুণ শটে বল জালে জড়ান অভিজ্ঞ এই স্ট্রাইকার।
গোলের পর হুলিয়ান কিনোনেসের উল্লাস -ছবি রয়টার্স
প্রথমার্ধের শেষ দিকে কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও গোল করতে পারেনি ইকুয়েডর। দ্বিতীয়ার্ধে বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও মেক্সিকোর সংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে ব্যর্থ হয় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। ৬৭তম মিনিটে সেসার মন্তেসের হেড এক হাতে দুর্দান্তভাবে ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক এর্নান গালিন্দেজ। কর্নার থেকে পাওয়া সুযোগও কাজে লাগাতে পারেনি মেক্সিকো।
ম্যাচে ৫৫ দশমিক ৭ শতাংশ বলের দখল ছিল ইকুয়েডরের। তবে তারা মাত্র পাঁচটি শট নিতে পারে, যার একটি পোস্টে লাগে। বিপরীতে মেক্সিকো ১৪টি শটের তিনটি লক্ষ্যে রেখে দুটি গোল আদায় করে নেয়।
যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে মেক্সিকোর এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের সময় মুখ ঢেকে কথা বলায় ভিডিও সহকারী রেফারির সহায়তায় লাল কার্ড দেখেন ইকুয়েডরের ডিফেন্ডার পিয়েরো ইনকাপিয়ে।
এই জয়ে বিশ্বকাপে মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডও ধরে রাখল স্বাগতিকরা। এবারের আসরে গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচই জিতে কোনো গোল না খাওয়া ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার সঙ্গে মেক্সিকোও ছিল অন্যতম দল। নকআউট পর্বেও সেই দাপট বজায় রাখল তারা।
ম্যাচটি আরেকটি ইতিহাসও দেখেছে। মেক্সিকোর ১৭ বছর বয়সী অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার গিলবার্তো মোরা বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে শুরুর একাদশে নামা দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। ১৯৫৮ সালে পেলের পর এই কীর্তি গড়লেন তিনি।
কোয়ার্টার ফাইনালে মেক্সিকোর সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে একই মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে, যেখানে স্বাগতিকদের স্বপ্নের পথচলা আরও দীর্ঘ করার অপেক্ষা।
সানা/আপ্র/১/৭/২০২৬