বিশ্বের সবচেয়ে জটিল ও দুরূহ সমস্যাগুলোর সমাধানের লক্ষ্য নিয়ে প্রথমবারের মতো একটি বিশেষায়িত কোয়ান্টাম কম্পিউটার নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়। এই উদ্যোগকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অগ্রগতির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) অস্ট্রেলিয়ার মোরেটন বে এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসা, জলবায়ু পরিবর্তন গবেষণা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার সক্ষমতা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল বিজ্ঞানবিষয়ক মন্ত্রী টিম আয়ারস এ প্রকল্পকে একটি বড় জাতীয় বিনিয়োগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া ভবিষ্যতের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের জন্য উচ্চমানের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বিজ্ঞানীদের মতে, জনসংখ্যার তুলনায় ছোট দেশ হলেও কোয়ান্টাম পদার্থবিদদের সংখ্যার দিক থেকে অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে রয়েছে। দক্ষ বিজ্ঞানী ও গবেষকদের উপস্থিতিই দেশটিকে এই প্রযুক্তিগত উদ্যোগের কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সাইকোয়ান্টামের অন্তর্বর্তী প্রধান নির্বাহী ভিক্টর পেং বলেন, বাস্তব বিশ্বের জটিল সমস্যার সমাধানে সক্ষম একটি কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি করা বর্তমানে অন্যতম বড় প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ। তবে মোরেটন বে অঞ্চলের উন্নত অবকাঠামো এবং অনুকূল পরিবেশ এই প্রকল্পকে দ্রুত এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।
এ প্রকল্পে অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার এবং কুইন্সল্যান্ড রাজ্য সরকার যৌথভাবে প্রায় ৯৪ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার অর্থায়ন করছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯৪০ মিলিয়নের সমান।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে অস্ট্রেলিয়া শুধু প্রযুক্তি উন্নয়নেই নয়, বৈশ্বিক বিজ্ঞান গবেষণার নেতৃত্বে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।
সানা/ডিসি/আপ্র/২০/৬/২০২৬