ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুই কর্মীর জুতার ভেতর থেকে ৮০টি সোনার বার উদ্ধারের মামলায় তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই আবু বকর ছিদ্দিক এ তথ্য জানান।
রিমান্ডে যাওয়া দুই আসামি হলেন মানিক মিয়া ও মিজানুর রহমান। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানায়, রোববার সকালে তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়।
সংস্থাটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সতর্ক অবস্থান নেন। দুবাই থেকে আসা এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের রানওয়েতে অবস্থানের স্থান থেকে দুই বিমানকর্মীর জুতার ভেতরে বিশেষ কায়দায় লুকানো ৮০টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়।
প্রতিটি সোনার বারের ওজন প্রায় ১১৭ গ্রাম। উদ্ধার করা সোনার মোট ওজন প্রায় ৯ কেজি ৩৪০ গ্রাম। এসব সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বলছে, বিমানকর্মীদের জুতায় সোনার বার লুকিয়ে চোরাচালানের সঙ্গে কারা জড়িত, সোনা কোথা থেকে এসেছে এবং কার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল - এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় রোববার বিমানবন্দরের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেলের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা রুহানী ইসলাম বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেন।
সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার পরিদর্শক আবুল কাইয়ুম দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।
শুনানির সময় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। বিচারক তাদের নাম, বাবার নাম ও ঠিকানা জানতে চান। তারা এসব প্রশ্নের উত্তর দেন। এরপর বিচারক জানতে চান, ‘স্বর্ণ কোথা থেকে আনলেন?’ জবাবে মানিক বলেন, ‘ফ্লাইটে পাইছিলাম।’ কীভাবে পেলেন - বিচারকের এমন প্রশ্নের জবাবে মানিক বলেন, ‘সিটে ছিল।’ তখন বিচারক বলেন, ‘মাঝে-মধ্যে পাওয়া যায়?’ তবে এ প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি তারা। আগে স্বর্ণ পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে মানিক বলেন, ‘না।’ তখন বিচারক বলেন, ‘১০০ গ্রাম, ২০০ গ্রাম না ৯ কেজি স্বর্ণ সিটে পাওয়া যায়।’ পরে বিচারক দুই আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
সানা/আপ্র/৫/১০/২০২৬