দিনাজপুরের বিরলে অবৈধভাবে সার মজুদের অভিযোগে দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৩৯১ বস্তা সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে চারজন সার ব্যবসায়ীকে মোট ১ লাখ ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি সার গুদাম সিলগালা করা হয়।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিরলের ২ নম্বর ফরক্কাবাদ ইউনিয়নের বিরল-বোচাগঞ্জ সড়কের পাশে মহাদেবপুর মাছুয়াপাড়া মোড়ে অভিযান চালান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজাউল ইসলাম। এ সময় মেসার্স শাহির ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. নাসিম ইকবাল খোকনের গুদাম থেকে অবৈধভাবে মজুদ করা ৭৮২ বস্তা সার জব্দ করা হয়। এর মধ্যে টিএসপি ৪৪৬ বস্তা, ডিএপি ২৭৬ বস্তা, এমওপি ৪৬ বস্তা ও ইউরিয়া ১৪ বস্তা। এ অপরাধে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
একই এলাকায় লাইসেন্সবিহীন খুচরা বিক্রেতা মো. আলিমের দোকান থেকে অবৈধভাবে মজুদ করা আরো ১৭ বস্তা সার জব্দ করা হয়। এর মধ্যে টিএসপি ৭ বস্তা, এমওপি ৭ বস্তা ও ডিএপি ৩ বস্তা। তাঁকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া উপজেলার ৪ নম্বর শহরগ্রাম ইউনিয়নের নাড়াবাড়ী বাজারে অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনোয়ার হোসেন। তিনি মেসার্স নবাব ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মশিউর রহমানের দোকানের দুটি ঘর থেকে নিবন্ধনবিহীনভাবে মজুদ করা ৮২ বস্তা সার জব্দ করেন। এর মধ্যে ডিএপি ৩২ বস্তা, ইউরিয়া ২৫ বস্তা ও এমওপি ২৫ বস্তা। এ ঘটনায় তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে চককাঞ্চন মোড়ে পৃথক অভিযানে মেসার্স হাসেম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ও বিসিআইসি ডিলার মো. হাসেমের ভাই মো. জাহাঙ্গীর আলমের কাছ থেকে অবৈধভাবে মজুদ করা ৫১০ বস্তা সার জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ডিএপি ১০৩ বস্তা ও এমওপি ৪০৭ বস্তা। তাঁকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের দুই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জব্দ করা সার সরকারি মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য বিরল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। পরে জব্দ করা সার বিক্রির ব্যবস্থা করা হয় এবং জাহাঙ্গীর আলমের সার গুদামটি সিলগালা করে রাখা হয়েছে।
সানা/আপ্র/১৫/৯/২০২৬