মো. জাহাঙ্গীর আলম, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৯৯৪ সালে স্থাপিত প্রায় ৩২ বছরের পুরোনো এক্স-রে মেশিন দিয়েই চলছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা। আধুনিক ডিজিটাল মেশিন না থাকায় প্রয়োজনীয় এক্স-রে করাতে গিয়ে রোগীদের অনেককেই বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এক্স-রে করাতে এসে অনেক রোগীকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাইরে যেতে হচ্ছে। এতে নিম্নআয়ের রোগীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ পড়ার পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসায় সময়ও বেশি লাগছে।
হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (এক্স-রে) শমশের আলী বলেন, জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন থাকলেও ঘোড়াঘাটে পুরোনো মেশিন দিয়েই সেবা দিতে হচ্ছে। তাঁর দাবি, এ মেশিনে বর্তমানে শুধু হাত ও পায়ের এক্স-রে করা সম্ভব।
তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. প্রিয়াঙ্ক কুন্ডু বলেন, হাত-পায়ের পাশাপাশি বুকের এক্স-রেও করা যায়। তবে যক্ষ্মা শনাক্তের ক্ষেত্রে বাইরে পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। মেডিকেল টেকনোলজিস্টের বক্তব্য সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
একই প্রতিষ্ঠানের এক্স-রে সেবা নিয়ে দায়িত্বশীল দুই কর্মকর্তার ভিন্ন বক্তব্যে রোগীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা আসমা বেগম বলেন, চিকিৎসক তাঁকে বুকের এক্স-রে করার পরামর্শ দিলেও হাসপাতালে এসে তা করা সম্ভব নয় বলে জানতে পারেন। পরে তাঁকে বাইরে পরীক্ষা করানোর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।
ডা. প্রিয়াঙ্ক কুন্ডু বলেন, ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন স্থাপনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পরও তিনি দুইবার বিষয়টি জানিয়েছেন। সেবা প্রদানে গাফিলতি বা ভুল তথ্য দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
রোগী ও স্বজনদের দাবি, ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে দ্রুত আধুনিক ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন স্থাপনের পাশাপাশি কোন ধরনের পরীক্ষা এখানে করা যায়, সে বিষয়ে পরিষ্কার তথ্য নিশ্চিত করা হোক।
সানা/আপ্র/২৩/৯/২০২৬