গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথম নারী গ্র্যাজুয়েট লীলা

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:০৯ পিএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২১:৫৯ এএম ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথম নারী গ্র্যাজুয়েট লীলা
ছবি

ছবি সংগৃহীত

১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিনগুলো ছিল অনেকটাই পুরুষকেন্দ্রিক। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল সীমিত। আর নারী শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ছিল প্রায় চোখে পড়ার মতো বিরল। বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিগত কাঠামো নারীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ দিলেও বাস্তব পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। সামাজিক বাস্তবতা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও নানা দ্বিধার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে নারীর উপস্থিতি তখনও ছিল ব্যতিক্রম। ঠিক এমন এক সময়েই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজায় এসে দাঁড়িয়েছিলেন লীলা নাগ।

কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক সম্পন্ন করে পদ্মাবতী স্বর্ণপদক অর্জন করেছিলেন লীলা। ১৯২১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ে স্নাতকোত্তর পড়ার জন্য আবেদন করেন। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীর ভর্তি তখনও একটি অস্বাভাবিক ঘটনা। শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য স্যার পি. জে. হার্টগ তার আবেদন অনুমোদন করেন। এর মধ্য দিয়ে লীলা নাগ প্রবেশ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের একেবারে শুরুর অধ্যায়ে। তবে ওই যাত্রায় তিনি একা ছিলেন না। একই সময়ে সুষমা সেনগুপ্তও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। গবেষণাভিত্তিক বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম শিক্ষাবর্ষে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল মাত্র দুজন—লীলা নাগ ও সুষমা সেনগুপ্ত। লীলা ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর এবং সুষমা অর্থনীতিতে পড়াশোনা শুরু করেন।

আজকের চোখে বিষয়টি হয়তো স্বাভাবিক মনে হতে পারে। কিন্তু এক শতাব্দী আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন নারীর উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পথ এতা সহজ ছিল না। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য তখন আলাদা আবাসিক ব্যবস্থা তো ছিলই না, এমনকি প্রয়োজনীয় সাধারণ সুযোগ-সুবিধাও পর্যাপ্ত ছিল না। লীলা নাগের ক্লাস করার ক্ষেত্রেও বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হয়েছিল। অর্থাৎ, বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা নারীদের জন্য নীতিগতভাবে খোলা থাকলেও সেই দরজা দিয়ে বাস্তবে প্রবেশ করতে প্রয়োজন হয়েছিল বাড়তি সাহস ও উদ্যোগের।

দুই বছরের অধ্যয়ন শেষে ১৯২৩ সালে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন লীলা নাগ। এর মধ্য দিয়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম নারী গ্র্যাজুয়েট হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেন। তবে তার পরিচয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ সম্ভবত এই একটি অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নিজের জন্য উচ্চশিক্ষার যে সুযোগ তিনি অর্জন করেছিলেন, পরবর্তী সময়ে সেটিকেই তিনি আরও অনেক নারীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজে ব্যবহার করেন। নারীশিক্ষাকে জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন লীলা নাগ। ঢাকায় মেয়েদের জন্য শিক্ষার সুযোগ তৈরিতে তিনি কাজ করেন এবং একটি মেয়েদের বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

শিক্ষাকে লীলা নাগ শুধু ব্যক্তিগত উন্নতির মাধ্যম হিসেবে দেখেননি; বরং নারীর আত্মনির্ভরতা ও সামাজিক অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। গবেষণাভিত্তিক বিভিন্ন বর্ণনায় উঠে এসেছে, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ তৈরিতে তার ভূমিকা ছিল। একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগের পাশাপাশি নারী আন্দোলন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। তাই তার জীবনকে শুধু ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম নারী গ্র্যাজুয়েট’-এর গল্প হিসেবে দেখলে তার ভূমিকার একটি বড় অংশই আড়ালে থেকে যায়। তার গল্পের প্রথম অধ্যায়ে আছে নিজের জন্য উচ্চশিক্ষার দরজা খুলে নেওয়ার সংগ্রাম। আর পরের অধ্যায়ে দেখা যায়, সেই দরজা দিয়ে তিনি যেন আরও অনেক নারীকে এগিয়ে আসার পথ দেখানোর চেষ্টা করছেন।

এক শতাব্দী পেরিয়ে আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র অনেক বদলে গেছে। শ্রেণিকক্ষ থেকে গবেষণাগার, প্রশাসন থেকে বিভিন্ন নেতৃত্বের পর্যায়- সবখানেই নারীর উপস্থিতি এখন দৃশ্যমান। হাজারো নারী শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করছেন, গবেষণা করছেন এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলছেন। অথচ এই স্বাভাবিক দৃশ্যের পেছনে রয়েছে এমন কিছু মানুষের পথচলা, যাদের সময়ের বাস্তবতায় প্রতিটি পদক্ষেপই ছিল নতুন কিছু করার মতো।

একজন নারী হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিকের শিক্ষার্থীদের একজন হয়ে লীলা নাগ যে পথচলা শুরু করেছিলেন, পরবর্তী প্রজন্মের নারীরা সেই পথকে আরও বিস্তৃত করেছেন। তাই আজকের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে নারী শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক উপস্থিতির দিকে তাকালে এক শতাব্দী আগের সেই ছোট্ট কিন্তু ঐতিহাসিক পদক্ষেপটির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

কেএমএএ/আপ্র/১০.০৯.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

পর্যটন: সেকাল, একাল এবং ভবিষৎকাল
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পর্যটন: সেকাল, একাল এবং ভবিষৎকাল

মাহবুব রুমনঅজানাকে জয় করার অদম্য ইচ্ছা থেকেই মানুষ আদিম যুগ থেকে আজকের এই এআই যুগে উপনীত হয়েছে। অজান...

পর্যটন: সেকাল, একাল এবং ভবিষৎকাল
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পর্যটন: সেকাল, একাল এবং ভবিষৎকাল

মাহবুব রুমনঅজানাকে জয় করার অদম্য ইচ্ছা থেকেই মানুষ আদিম যুগ থেকে আজকের এই এআই যুগে উপনীত হয়েছে। অজান...

পর্যটন: সেকাল, একাল এবং ভবিষৎকাল
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পর্যটন: সেকাল, একাল এবং ভবিষৎকাল

মাহবুব রুমনঅজানাকে জয় করার অদম্য ইচ্ছা থেকেই মানুষ আদিম যুগ থেকে আজকের এই এআই যুগে উপনীত হয়েছে। অজান...

সংকটে বাংলাদেশ: পথ ও প্রত্যাশা
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংকটে বাংলাদেশ: পথ ও প্রত্যাশা

নজরুল ইসলামবাংলাদেশ এমন একটি সময় পার করছে, যাকে শুধু আরেকটি রাজনৈতিক সংকট বলে দেখলে হয়তো পুরো বাস্তব...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

বাস ভাড়া বাড়লো কিলোমিটারে ১৭ পয়সা, প্রজ্ঞাপনের আগেই বাড়তি আদায়

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির আগেই রাজধানীসহ বিভিন্ন রুটে বাসভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন পরিবহনকর্মীদের কেউ কেউ। কোথাও ১০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১৫ টাকা, কোথাও প্রতি স্টপেজে পাঁচ টাকা করে বেশি নেওয়া হচ্ছে। দূরপাল্লার বাসেও গন্তব্যভেদে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অথচ সরকার ও সড়ক পরিবহন মালিকপক্ষ প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন বাস ভাড়ার এই নৈরাজ্য সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে?

মোট ভোট: ০ | শেষ আপডেট: 20 ঘন্টা আগে