কুড়িগ্রামে সরকারি প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রে বিনামূল্যে চিকিৎসা, থেরাপি, পরীক্ষা, পরামর্শ ও সহায়ক উপকরণ পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের আওতায় পরিচালিত এ কেন্দ্রে প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ জন বিভিন্ন ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধিতা, স্ট্রোক, ব্যথাজনিত সমস্যা, কথা বলা ও শোনার সমস্যা নিয়ে সেবা নিতে আসছেন।
কুড়িগ্রাম শহরের মধুরমোড়-নিমবাগান এলাকায় অবস্থিত কেন্দ্রটিতে জেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকেও নারী, পুরুষ ও শিশুরা চিকিৎসা ও থেরাপি নিতে আসছেন। উলিপুরের বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের চরাঞ্চল থেকে শিশু আবু বক্করকে নিয়ে আসা মজনু ইসলাম জানান, তাঁর সন্তান কথা বলতে পারে না। কেন্দ্রে বিনামূল্যে শ্রবণ পরীক্ষা করানোর পর উল্লেখযোগ্য সমস্যা পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকের পরামর্শে শিশুটিকে কথা বলার সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় থেরাপি দেওয়া হচ্ছে।
কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ ও মাত্রা নির্ণয়ের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি, স্পিচ ও ভাষা থেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা, কাউন্সেলিং, নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅ্যাবিলিটি কর্নার, মোবাইল থেরাপি ভ্যান, সহায়ক উপকরণ বিতরণ ও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে রেফারেল সেবা দেওয়া হয়।
২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার ৫০০ জনকে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১২০টি সেবা দেওয়া হচ্ছে, মাসে যার পরিমাণ প্রায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০। এ ছাড়া অসচ্ছল প্রতিবন্ধীদের জন্য প্রায় ৮০০টি হুইলচেয়ার, ১৫ থেকে ১৮টি তিন চাকার সাইকেল এবং শ্রবণযন্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।
কেন্দ্রের সেবা নিতে আসা রাজারহাটের বিবিজন ও ছিনাই ইউনিয়নের নুর ইসলাম জানান, নিয়মিত থেরাপি নিয়ে তাঁদের ব্যথার সমস্যা আগের তুলনায় কমেছে। দূরবর্তী এলাকা থেকে এলেও বিনামূল্যে চিকিৎসা ও পরামর্শ পাওয়ায় তাঁরা উপকৃত হচ্ছেন।
দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা ও কনসালট্যান্ট ফিজিওথেরাপি ডা. মো. আরিফুর রহমান বলেন, রোগীর নিবন্ধন থেকে প্রয়োজনীয় সেবা পর্যন্ত সবকিছু সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। তবে রোগীর চাপ বাড়লেও বর্তমানে কনসালট্যান্ট ফিজিওথেরাপি, থেরাপি সহকারী, টেকনিশিয়ান ও স্টাফসহ মোট সাতজন জনবল দিয়ে কেন্দ্রের কার্যক্রম চলছে। প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম থাকায় সেবা দিতে চাপ তৈরি হচ্ছে।
সম্প্রতি কেন্দ্রের সুনাম নষ্ট করতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে জানিয়ে আরিফুর রহমান বলেন, অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে যেকোনো অভিযোগ যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রয়োজনীয় জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকায় প্রচার কার্যক্রম জোরদার করা গেলে কুড়িগ্রামের আরো বেশি মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবার আওতায় আসবেন।
সানা/আপ্র/২৩/৯/২০২৬