আবদুল্লাহ আল মামুন, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ১১ নম্বর পদ্মপুকুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ কেটে পাইপ বসিয়ে নদী থেকে লোনা পানি ওঠানো-নামানোর অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে চাউলখোলা ও খুটিকাটা এলাকায় এ ধরনের নাইন্টি পাইপের সংখ্যা বেশি বলে দাবি এলাকাবাসীর।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধের ভেতর দিয়ে এসব পাইপ বসিয়ে নদী থেকে লোনা পানি চিংড়ির ঘেরে প্রবেশ করানো হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আবার ঘেরের পানি নদীতে বের করে দেওয়া হচ্ছে। এতে পাইপ বসানো স্থানগুলোতে বেড়িবাঁধ দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের ধান ও মিষ্টি পানির মাছের জমিতে লোনা পানি প্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
চাউলখোলা ও খুটিকাটা এলাকার বাসিন্দাদের ভাষ্য, কোনো কোনো স্থানে অল্প দূরত্বের মধ্যেই একাধিক পাইপ দেখা যায়। দীর্ঘদিন ধরে এসব পাইপ দিয়ে পানি ওঠানো-নামানোর কারণে পাইপের আশপাশের মাটি এবং বেড়িবাঁধের গোড়া ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।
স্থানীয়দের মতে, এ এলাকার মানুষের জন্য বেড়িবাঁধ শুধু নদীর পানি ঠেকানোর অবকাঠামো নয়; অনেক স্থানে এটিই মানুষের প্রধান চলাচলের রাস্তা। ফলে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে একদিকে বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি বাড়তে পারে, অন্যদিকে যোগাযোগব্যবস্থাতেও দুর্ভোগ তৈরি হতে পারে।
একজন স্থানীয় কৃষক বলেন, ‘আমরা চাই ঘেরও থাকুক, কৃষিও থাকুক। কিন্তু একজনের লোনা পানির ঘেরের কারণে যেন অন্য মানুষের ধান ও মিষ্টি পানির মাছের ক্ষতি না হয়। সরকারি বেড়িবাঁধ কেটে পাইপ বসানো হয়ে থাকলে প্রশাসন তদন্ত করে ব্যবস্থা নিক।’
আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘চাউলখোলা ও খুটিকাটায় কোথায় কতগুলো নাইন্টি পাইপ আছে, প্রশাসন সরেজমিনে এসে হিসাব করুক। কোনটির অনুমোদন আছে আর কোনটির নেই, সেটিও প্রকাশ করা হোক।’
এলাকাবাসীর দাবি, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে চাউলখোলা ও খুটিকাটাসহ পুরো পদ্মপুকুর ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ জরুরি ভিত্তিতে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হোক। অনুমোদনহীন পাইপ পাওয়া গেলে সেগুলো অপসারণের পাশাপাশি কাটা বাঁধ যথাযথভাবে মেরামত এবং ভবিষ্যতে অনুমতি ছাড়া বাঁধ কাটার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বেড়িবাঁধের কোনো একটি দুর্বল স্থান দিয়ে নদীর পানি প্রবেশ করলে ক্ষতি শুধু একটি ঘের বা জমির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এতে আশপাশের বসতবাড়ি, কৃষিজমি, মাছের ঘের এবং মানুষের চলাচলের রাস্তাও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
এলাকাবাসীর দাবি, ব্যক্তিস্বার্থে নয়, কৃষি, জনপদ ও মানুষের নিরাপত্তা রক্ষায় বেড়িবাঁধের অনুমোদনহীন নাইন্টি পাইপ বন্ধ করতে হবে।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/৩/১০/২০২৬