পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়ামের চতুর্থ চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৭টা ১৭ মিনিটের দিকে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় জ্বালানিবাহী গাড়িগুলো প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে।
এর আগে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাশিয়া থেকে বিশেষ ফ্লাইটে জ্বালানি বহনকারী বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে শনিবার রাত ৩টার দিকে জ্বালানিবাহী তিনটি লরি বিমানবন্দর থেকে রূপপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।
সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় সড়কপথে লরিগুলো রূপপুর প্রকল্পে নেওয়া হয়। জ্বালানি পরিবহনের সময় মহাসড়কের বিভিন্ন মোড়ে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি দেখা যায়। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি এসআরবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।
পুলিশ ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ঢাকা থেকে জ্বালানিবাহী গাড়িগুলো রূপপুরে নেওয়া হয়। এ সময় মহাসড়কে যানজট এড়াতে সাময়িকভাবে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
আরো সাতটি চালান আসার কথা
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গোতে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি এবং প্রথম ইউনিটে জ্বালানি পুনঃস্থাপনের জন্য দুটি কার্গোতে অতিরিক্ত ৪৮টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি দেশে আনার কথা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে শনিবার দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানির চতুর্থ চালান আনা হয়েছে।
তাঁরা জানান, আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে রাশিয়া থেকে আরও সাতটি ফ্লাইটে ইউরেনিয়ামের চালান দেশে আসার কথা রয়েছে।
এর আগে ২০২৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জ্বালানি দেশে পৌঁছায়। ওই বছরের অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে আরও চারটি চালানে জ্বালানি রূপপুরে নেওয়া হয়। চলতি বছরের মে মাসে প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি স্থাপন করা হয়।
প্রায় দেড় বছর পর প্রথম ইউনিটের ব্যবহৃত জ্বালানির এক-চতুর্থাংশ পরিবর্তন করতে হবে। এ জন্য চলতি মাসের ৩ অক্টোবর প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত জ্বালানির একটি চালান রূপপুরে আনা হয়। পরে ২১ অক্টোবর সকালে দ্বিতীয় ইউনিটের দ্বিতীয় চালান এবং ২৭ অক্টোবর তৃতীয় চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়।
দুই ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ২,৪০০ মেগাওয়াট
চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছর রাশিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির জ্বালানি সরবরাহ করবে। এরপর নির্ধারিত সময় পরপর জ্বালানি পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশকে তা আমদানি করতে হবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।
এদিকে, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
এসি/আপ্র/৩১/১০/২০২৬