চট্টগ্রাম মহানগরের খাবারের হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোর একাংশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও পরিবেশনের চিত্র উঠে এসেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে। বাসি খাবার সংরক্ষণ, খাবারে তেলাপোকার বিচরণ এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুতের দায়ে নগরের ফলমন্ডি এলাকার তিন রেস্তোরাঁকে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই দিন কর্ণফুলী এলাকায় মেয়াদোত্তীর্ণ ও অননুমোদিত ওষুধ বিক্রির দায়ে একটি ফার্মেসিকে আরো ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় ও চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের যৌথ অভিযানে এসব জরিমানা আদায় করা হয়।
অভিযান পরিচালনাকারী দল জানায়, ফলমন্ডি এলাকার কয়েকটি হোটেলে অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও পরিবেশন করা হচ্ছিল। আগের দিনের রান্না করা বাসি খাবার অস্বাস্থ্যকর ফ্রিজে সংরক্ষণ করে পুনরায় বিক্রির প্রস্তুতিও চলছিল। এসব খাবারের আশপাশে অবাধে তেলাপোকার বিচরণ দেখা যায়। এ ধরনের পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
এসব অনিয়মের দায়ে নাসির উদ্দিন হোটেলকে ২৫ হাজার টাকা, আল বোরাক টি স্টল অ্যান্ড ঝাল বিতানকে ২০ হাজার টাকা এবং জিলানী ভাতঘরকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে, একই দিন নগরের কর্ণফুলী এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে মনিরিয়া ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অননুমোদিত ওষুধ বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়। এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহর নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেন সহকারী পরিচালক মাহমুদা আক্তার ও রানা দেবনাথ।
উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ জানান, জনস্বার্থে ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ খাদ্য ও পণ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে আইন মেনে চলা এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অভিযানে চারটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভোক্তা অধিকার রক্ষা এবং খাদ্য ও ওষুধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান চলবে।
সানা/আপ্র/৬/১১/২০২৬