বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সিরামপুর মৌজায় বিএনপির নাম ব্যবহার করে একদল দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে দখল, চাঁদাবাজি, লুটপাট, নারী নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ২১ এপ্রিল দুপুরে কালাম শিকদার, আউলিয়া শেখ ও মোহাম্মাদ শেখের নেতৃত্বে ১২-১৩ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল তাদের ঘের ও বসতবাড়িতে হামলা চালায়। এসময় হামলাকারীরা ঘরে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালালে আতঙ্কে পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, হামলার সময় মোহাম্মাদ শেখ নামে একজন ঘরে ঢুকে এক নারীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং তার পরিহিত কাপড় ছিঁড়ে দেয়। পরে তাকে চুল ধরে টেনে বাইরে এনে মারধর করা হয়। এছাড়া একটি স্বর্ণের চেইন ও একটি মোবাইল ফোনসহ ঘরের আইপিএস, ব্যাটারি ও অন্যান্য মালামাল লুট করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭ লাখ টাকা।
পরে হামলাকারীরা একটি টিনের ঘর ও তিনটি গোলপাতার ঘরে ডিজেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিলে ঘরগুলো সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। হামলার সময় তাদের হাতে লোহার রড, কুড়াল, রামদা ও দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, তারা প্রায় ১২-১৩ বছর ধরে প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে ঘের করে ভোগদখল করে আসছিলেন। জমি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, একই দিন রাতে হামলাকারীরা ঘের থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ ও একটি ডিজেলচালিত মেশিন লুট করে নিয়ে যায়। পরদিন গিয়ে দেখা যায়, ঘেরের ডাল, টিউবওয়েল ও বিভিন্ন গাছপালাও তুলে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ভুক্তভোগীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং এলাকা ছাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এ ঘটনার সময় শেখ মুজিবর রহমান, মরিয়ম বেগম, হাবিবুর হালদার ও বিশ্বাস আব্দুল হালিমসহ স্থানীয় কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সানা/আপ্র/২৩/৪/২০২৬