বাগেরহাট জেলা পরিষদের উদ্যোগে ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ এবং দেশের বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগপ্রাপ্ত ৪১৮ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে এককালীন শিক্ষাবৃত্তি ও সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) সকাল ১১টায় জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক সচিব ড. মো. ফরিদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগপ্রাপ্ত ৫৫ জন শিক্ষার্থীকে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা এবং এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ ৩৬৩ জন শিক্ষার্থীকে জনপ্রতি ছয় হাজার টাকা করে মোট ৪১৮ জনের মধ্যে ২৭ লাখ ২৮ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়। এ সময় জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অনুপ কুমার দাশ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এ টি এম আকরাম হোসেন তালিম, সরকারি প্রফুল্ল চন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর আলী, খানজাহান আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ খন্দকার হাছিফ উদ্দিন রাখীসহ জেলার গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী নানা প্রতিকূলতার কারণে উচ্চশিক্ষার পথ থেকে ঝরে পড়ে। তিনি বলেন, নিজেও উপকূলীয় এলাকার সন্তান হওয়ায় সংগ্রামের বাস্তবতা তার জানা। তাই কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও পরিবারের ত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত এই সাফল্যকে দেশের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন বাংলাদেশ গঠনে দক্ষ মানবসম্পদই হবে সবচেয়ে বড় শক্তি। উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়বদ্ধতা চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি শিক্ষার্থীদের মাদক, দুর্নীতি ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে থেকে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণে তরুণদের আরো সক্রিয় হতে হবে। সুন্দরবনসহ দেশের বনাঞ্চল রক্ষা, বৃক্ষরোপণ, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে শিক্ষার্থীদের অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশ জলবায়ু ক্ষতিপূরণের ন্যায্য দাবি তুলে ধরছে বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, প্রশাসক ও নীতিনির্ধারক। অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগিয়ে জ্ঞানভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার নেতৃত্ব তাদেরই নিতে হবে।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী বাগেরহাট সরকারি প্রফুল্ল চন্দ্র কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সানা/আপ্র/২৭/৬/২০২৬