একেএম ফজলুল হক: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জন্য ২ হাজার ২৬০ কোটি ২৪ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ বাজেট ঘোষণা করেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
নতুন বাজেটে জলাবদ্ধতা নিরসনে ১২২ কোটি টাকা এবং মশকনিধনে ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এ দুই খাতে মোট ১৪৭ কোটি টাকার বরাদ্দ, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
একই অনুষ্ঠানে ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটও ঘোষণা করা হয়। ওই অর্থবছরে মূল বাজেট ছিল ১ হাজার ৬৬৫ কোটি ৯২ লাখ টাকার, যা উন্নয়ন অনুদান ও রাজস্ব আদায় কম হওয়ায় প্রায় ২২ দশমিক ৩৪ শতাংশ কমিয়ে সংশোধিত করা হয়। বছর শেষে বাজেট বাস্তবায়নের হার দাঁড়ায় প্রায় ৭৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
চসিকের ২ হাজার ২৬০ কোটি টাকার নতুন বাজেট ঘোষণা
বাজেট বক্তৃতায় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রামকে ক্লিন, গ্রিন, হেলদি, সেফ ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর একটি অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ও পর্যটনবান্ধব নগরীতে রূপান্তর করাই এবারের বাজেটের মূল লক্ষ্য।
চসিকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৪ হাজার ২২৬ জন জনবল দিয়ে প্রায় ৭০ লাখ নগরবাসীকে সেবা দিতে হচ্ছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে উল্লেখ করেন মেয়র।
আয়ের বড় উৎস কর ও সরকারি অনুদান
নতুন বাজেটে হাল কর ও অভিকর খাতে ৪২৬ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গত অর্থবছরে এই খাতে আদায় হয়েছিল ৩১৫ কোটি টাকা। বকেয়া আদায় থেকে ১৯৭ কোটি টাকা এবং সেবামূলক ফি থেকে ১৪০ কোটি ২০ লাখ টাকা আয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারি উন্নয়ন অনুদান খাতে ৯৭৫ কোটি টাকা পাওয়ার আশা করা হচ্ছে, যা মোট বাজেটের একটি বড় অংশ।
উন্নয়ন ব্যয় ও অবকাঠামো
নতুন বাজেটে উন্নয়ন খাতে ৮২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। চসিকের নিজস্ব তহবিল থেকে আরো ২১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা যুক্ত হয়ে মোট ১ হাজার ৩৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা রাস্তাঘাট, কালভার্ট ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় হবে।
বেতন–ভাতা বাবদ ৪৮০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও পানি খাতে ৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া পুরনো দেনা পরিশোধে ১৮৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
জলাবদ্ধতা ও মশক নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব
বর্ষাকালীন দুর্ভোগ কমাতে জলাবদ্ধতা নিরসনে ১২২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪৭ শতাংশ বেশি।
ডেঙ্গু ও মশক নিয়ন্ত্রণে ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি।
বাজেট উদ্বৃত্ত: নতুন অর্থবছরের আয়–ব্যয়ের হিসাব শেষে চসিকের তহবিলে ৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা উদ্বৃত্ত থাকার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই উদ্বৃত্ত ছিল ৪৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা।
সানা/আপ্র/৩০/৬/২০২৬