নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের উদ্যোগে কথাসাহিত্যিক রশীদ করীম, কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য এবং নাট্যকার মুনীর চৌধুরীকে নিয়ে ‘জন্মশতবর্ষে রশীদ করীম, সুকান্ত ভট্টাচার্য এবং মুনীর চৌধুরী: জীবন ও সাহিত্য পাঠ’ শীর্ষক বার্ষিক সেমিনার-২০২৫-২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত সোমবার (২৯ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ‘তরুণের সাধনা’ সম্মেলন কক্ষে দিনব্যাপী এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারাফ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা (মাওলা প্রিন্স)।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, মানুষের সবকিছুই আবেগ দিয়ে চলে না, তবে সাহিত্যের বড় অংশজুড়েই রয়েছে আবেগ। সেই আবেগকে কাজে লাগিয়ে মনের বিকাশ ঘটাতে হবে। তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের এ ধরনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং গবেষণা, সেমিনার, কর্মশালা ও সিম্পোজিয়ামের আয়োজন আরো বাড়ানোর আহ্বান জানান।
সেমিনারের প্রথম অধিবেশনে ‘রশীদ করীমের “বিদায়বেলার মালাখানি”: সভ্যতার সংকটভাবনার নানামাত্রা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সহযোগী অধ্যাপক ড. কল্পনা হেনা রুমি। আলোচক ছিলেন ড. অনিরুদ্ধ কাহালি।
দ্বিতীয় অধিবেশনে ‘সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা: শৈলী পর্যালোচনা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. আহমেদুল বারী।
তৃতীয় অধিবেশনে ‘মুনীর চৌধুরীর “কবর” এবং আরউইন শ-এর “ব্যরি দ্য ডেড”: তুলনামূলক আলোচনা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. তারানা নূপুর। আলোচক ছিলেন শিক্ষাবিদ ও মুনীর চৌধুরী গবেষক ড. মোহাম্মদ জয়নুদ্দীন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. মো. সাহাবউদ্দিন এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. মো. মাহবুব হোসেন। সঞ্চালনা করেন প্রভাষক জুয়েনা জাহান এ্যানি এবং সহকারী অধ্যাপক ড. তানিয়া আক্তার।
এছাড়া অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. ফারহানা শাহরিন, বরিশাল ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ আনিস হাসিনা এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। দিনব্যাপী সেমিনারে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেখা যায়।
বক্তারা বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের গবেষণা, সৃজনশীলতা ও জীবনগঠনে অনুপ্রেরণা জোগাবে। একই সঙ্গে রশীদ করীম, সুকান্ত ভট্টাচার্য ও মুনীর চৌধুরীর সাহিত্যকর্ম ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের চিন্তা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
সানা/আপ্র/৩০/৬/২০২৬