দীর্ঘ সময় পর্যটক সংকটে ভোগার পর আবারো প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেতে শুরু করেছে দেশের অন্যতম সমুদ্রসৈকত পটুয়াখালীর কুয়াকাটা। সবশেষ সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (৩১ জুলাই) ও শনিবার (১ আগস্ট) কয়েক মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পর্যটকের আগমন লক্ষ্য করা গেছে। এতে নতুন আশার আলো দেখছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
তাদের প্রত্যাশা, সৈকতের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও পর্যটকবান্ধব সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ করা হলে আগামী মৌসুমে পর্যটকের সংখ্যা আরো বাড়বে।
সাধারণত অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়কে কুয়াকাটার পর্যটন মৌসুম হিসেবে ধরা হলেও পদ্মা সেতু চালুর পর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সারা বছরই পর্যটকদের আগমন বাড়তে শুরু করেছে। ফলে মৌসুমি নির্ভরতা অনেকটাই কমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কুয়াকাটার মূল সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি লেম্বুরবন, গঙ্গামতি, চর বিজয়, ঝাউবাগান, মিশ্রীপাড়া, রাখাইন মার্কেটসহ আশপাশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানও এখন পর্যটকদের কাছে সমান জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এসব স্পটে ঘুরতে গিয়ে পর্যটকেরা প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার কুয়াকাটার আবাসিক হোটেলগুলোর প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কক্ষ বুকিং ছিল। কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি বলে জানিয়েছেন হোটেল মালিকরা। সামনে পর্যটন মৌসুমকে ঘিরে ইতোমধ্যে হোটেল-রিসোর্টগুলো সংস্কার, পরিচ্ছন্নতা এবং সেবার মান উন্নয়নের কাজ শুরু করেছে।
হোটেল খান প্যালেসের ব্যবস্থাপক মো. সাকুর বলেন, দীর্ঘদিন ব্যবসা খুবই ধীরগতিতে চলেছে। তবে গত কয়েকটি সাপ্তাহিক ছুটিতে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। সামনে মৌসুমকে সামনে রেখে হোটেলের কক্ষ সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সেবার মান উন্নয়নের কাজ করছি।
সৈকতের ব্যবসায়ী মো. মামুন আকন বলেন, পর্যটক বাড়লে আমাদের ব্যবসাও সচল হয়। গত কয়েক মাসের তুলনায় এবার ছুটির দিনে ভালো বেচাকেনা হয়েছে। যদি পর্যটকদের জন্য আরো সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয় এবং সৈকত পরিচ্ছন্ন রাখা যায়, তাহলে পর্যটকের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) এর সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, ‘কুয়াকাটার পর্যটন শিল্প ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। সামনে মৌসুমকে কেন্দ্র করে আমরা বিভিন্ন পর্যটন প্যাকেজ ও সেবার পরিকল্পনা করছি। তবে পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়ন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নতুন নতুন বিনোদন সুবিধা চালু করা গেলে দেশি-বিদেশি পর্যটক আরও আকৃষ্ট হবেন।’
ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের ইনচার্জ নাজমুল আহসান বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটিসহ পর্যটকের চাপ বেশি থাকলে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়। পর্যটকরা যেন নির্বিঘ্নে ভ্রমণ করতে পারেন, সে জন্য আমরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছি।’
এসি/আপ্র/০১/০৮/২০২৬