গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

মেনু

এপ্রিলেই ১২ জাহাজে জ্বালানি তেল আমদানি

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:১৪ পিএম, ২০ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১৩:৫২ এএম ২০২৬
এপ্রিলেই ১২ জাহাজে জ্বালানি তেল আমদানি
ছবি

ছবি সংগৃহীত

ইরানকে ঘিরে বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব দেশের জ্বালানি বাজারেও পড়লেও ধারাবাহিক আমদানির মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ২০ দিনেই ডিজেল, অকটেন, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস তেলসহ মোট ১২টি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে। পাশাপাশি ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমেও আসছে ডিজেল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এভাবে সরবরাহ অব্যাহত থাকলে আগামী দুই মাসে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা নেই।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, এ মাসে ৮টি জাহাজে এসেছে ২ লাখ ৭৪ হাজার টন ডিজেল এবং ২টি জাহাজে ৫৩ হাজার টন অকটেন। এছাড়া একটি করে জাহাজে এসেছে প্রায় ১২ হাজার টন জেট ফুয়েল ও ২৫ হাজার টন ফার্নেস তেল। এর বাইরে ভারত থেকে পাইপলাইনে এসেছে আরও ১২ হাজার টন ডিজেল। এসব সরবরাহের ফলে রোববার থেকে অনেক ফিলিং স্টেশনে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রলের সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম জানিয়েছেন, নিয়মিত জ্বালানি আসছে এবং এপ্রিলে কোনো সংকট নেই। অকটেনের মজুত ইতোমধ্যে মাসিক চাহিদার চেয়ে বেশি হয়েছে। এখন আগাম মে ও জুন মাসের সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

দেশে মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেলনির্ভর। চলতি মাসে ডিজেলের চাহিদা প্রায় ৪ লাখ টন। ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত মজুত ছিল ১ লাখ ২ হাজার ১৯১ টন, যা দিয়ে প্রায় ৯ দিন চলবে। তবে খালাসের অপেক্ষায় থাকা আরও প্রায় ১ লাখ ৬৪ হাজার টন ডিজেল যুক্ত হলে মজুত আরও অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য বাড়বে।

১ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত ডিজেল বিক্রি হয়েছে ২ লাখ ৯০৪ টন। দৈনিক গড় বিক্রি ১১ হাজার ১৬১ টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা কম। অর্থাৎ সরবরাহে চাপ থাকলেও চাহিদা কিছুটা কমতির দিকেই রয়েছে।

অকটেনের ক্ষেত্রে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত মজুত দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯ হাজার টন, যা দিয়ে প্রায় ২৪ দিন চাহিদা পূরণ সম্ভব। এর সঙ্গে নতুন করে ২৭ হাজার টন অকটেন খালাস শুরু হওয়ায় মজুত সক্ষমতার সীমা ছাড়ানোর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

পেট্রোলের মজুত রয়েছে প্রায় ১৯ হাজার টন, যা দিয়ে প্রায় ১৪ দিন চলবে। দৈনিক গড় বিক্রি ১ হাজার ২৫৩ টন, যা গত বছরের তুলনায় কম। ফার্নেস তেলের মজুত ৬৭ হাজার ৩৭৮ টন, যা দিয়ে প্রায় ৩০ দিন বিদ্যুৎ উৎপাদন চালানো সম্ভব। এ খাতে দৈনিক গড় ব্যবহারও কমেছে।

অন্যদিকে জেট ফুয়েলের চাহিদা কিছুটা বেড়েছে। বর্তমানে এর মজুত রয়েছে ২৩ হাজার ৮৬ টন, যা দিয়ে প্রায় ১৫ দিন চলবে। বিমান চলাচল বাড়ার কারণে এই জ্বালানির ব্যবহারও বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

কেরোসিন ও মেরিন ফুয়েলের মজুত যথাক্রমে প্রায় ৩৬ ও ৩২ দিনের। এই দুই জ্বালানির চাহিদা তুলনামূলক কম হওয়ায় সরবরাহে তেমন চাপ নেই।

সব মিলিয়ে ধারাবাহিক আমদানির ফলে জ্বালানির মজুত দ্রুত বাড়ছে এবং এ সপ্তাহেই আরও অন্তত পাঁচটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে এখনো পুরোপুরি স্বস্তি ফিরেনি। আগের ঘাটতির কারণে তৈরি চাপ কাটতে সময় লাগছে, ফলে অনেক ফিলিং স্টেশনে এখনো ভিড় অব্যাহত রয়েছে।

বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, এ মাসে তেলের কোনো সংকট নেই এবং নিয়মিত আমদানি অব্যাহত রয়েছে।

এসি/আপ্র/২০/০৪/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

পাম্পে সংকট, খোলাবাজারে তেলের রমরমা
২০ এপ্রিল ২০২৬

পাম্পে সংকট, খোলাবাজারে তেলের রমরমা

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত জ্বালানি সংকটের মধ্যে দেশে তেলের দাম বাড়লেও পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনের দৃশ্...

আজ থেকে ২০ শতাংশ বেশি বিক্রি হবে অকটেন, পেট্রোল-ডিজেল ১০ শতাংশ
২০ এপ্রিল ২০২৬

আজ থেকে ২০ শতাংশ বেশি বিক্রি হবে অকটেন, পেট্রোল-ডিজেল ১০ শতাংশ

দেশে জ্বালানি তেল বিক্রির সরবরাহ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। সে লক্ষ্যে সোমবার...

বিশ্ববাজারে কমলেও দেশে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন
২০ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্ববাজারে কমলেও দেশে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব কাটতে না কাটতেই ইরান সংঘাতের অভিঘাতে বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারে নতুন অ...

ডিজেলের দাম বাড়ায় কিলোমিটারে চার টাকা ভাড়া বৃদ্ধির দাবি
১৯ এপ্রিল ২০২৬

ডিজেলের দাম বাড়ায় কিলোমিটারে চার টাকা ভাড়া বৃদ্ধির দাবি

দেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতে। ডিজেলের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাস ও ট্র...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই