গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

আত্মহত্যা প্রতিরোধে সহমর্মিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলা দরকার

খান মুহঃ আশরাফুল আলম

খান মুহঃ আশরাফুল আলম

প্রকাশিত: ১৯:৩৩ পিএম, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১২:১৬ এএম ২০২৬
আত্মহত্যা প্রতিরোধে সহমর্মিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলা দরকার
ছবি

আত্মহত্যা প্রতিরোধে সহমর্মিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলা দরকার

প্রতি বছর ১০ সেপ্টেম্বর পালিত হয় ‘বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস’। বর্তমান সময়ে আত্মহত্যার মতো একটি স্পর্শকাতর ও করুণ সামাজিক ব্যাধি আমাদের সমাজে নীরব মহামারির রূপ নিয়েছে- যা কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ আত্মহননের পথ বেছে নেন- যার একটি বড় অংশ ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। আমাদের দেশেও তরুণ সমাজ তথা শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশে প্রতিদিন গড়ে বহু মানুষ আত্মহত্যার শিকার হচ্ছেন, যার একটি বড় অংশ ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি তরুণ-তরুণী। এই পরিসংখ্যান কেবল কিছু সংখ্যার হিসাব নয়, একেকটি সম্ভাবনাময় তাজা প্রাণের অকাল ঝরে যাওয়ার করুণ দলিল, যা আমাদের সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কাঠামোর এক গভীর ব্যর্থতা ফুটিয়ে তোলে।  

বলা বাহুল্য, আত্মহত্যার পেছনে মূলত কাজ করে তীব্র মানসিক অবসাদ, পারিবারিক সংকট, সম্পর্কের টানাপোড়েন, বেকারত্ব এবং একাডেমিক বা ভবিষ্যৎ জীবনের অতিরিক্ত চাপ। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে হতাশা সহ্য করার ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং নিজেদের মনের কথাগুলো খোলাখুলি শেয়ার করার মতো আস্থার পরিবেশের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এর পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আমাদের সমাজে এখনো এক ধরনের নেতিবাচক ধারণা বা ট্যাবু প্রচলিত রয়েছে। ফলে মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা সময়মতো পেশাদার কাউন্সেলিং বা চিকিৎসা নিতে দ্বিধাবোধ করেন। অনেক সময় পরিবার বা সমাজ তাদের সমস্যাটিকে সহানুভূতি দিয়ে না দেখে বিচার করতে শুরু করে, যা ভুক্তভোগীকে আরও বেশি নিঃসঙ্গ করে তোলে এবং চরম পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়।   এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কেবল শোক প্রকাশ বা দিবসকেন্দ্রিক আলোচনা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা। মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে এবং স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে এমন হেল্পলাইন বা হটলাইন সেবা আরও সহজলভ্য ও প্রচারমুখী করা জরুরি- যাতে সংকটকালে যে কেউ পেশাদার সাহায্য পেতে পারেন।

বলার অপেক্ষা রাখে না, আত্মহত্যা কোনো অপরাধ নয়, বরং একটি মানসিক নিরাময়যোগ্য সংকট- এই ধারণার পরিবর্তন ঘটিয়ে আমাদের প্রতিটি মানুষের পাশে সহানুভূতিশীল বন্ধু হিসেবে দাঁড়াতে হবে। আত্মহত্যা প্রতিরোধে প্রয়োজন একটি সংবেদনশীল সমাজ ও শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষাবলয়। প্রতিযোগিতাপূর্ণ এই যুগে পারস্পরিক দূরত্ব ও একাকীত্ব কাটিয়ে পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের মধ্যে সুসম্পর্ক এবং সহমর্মিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি জীবন অমূল্য। তাই মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রচলিত কুসংস্কার ভেঙে এমন এক নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলি- যেখানে কেউ নিজেকে একা বা অসহায় মনে করবে না এবং প্রত্যেকেই খুঁজে পাবে বেঁচে থাকার নতুন প্রেরণা।

কেএমএএ/আপ্র/১০.০৯.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাই আরো সচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগ
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাই আরো সচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগ

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর মিছিল থামছে না। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা, দীর্ঘ হচ্ছে শোকাহত পরিবারের...

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান জরুরি
২৮ অক্টোবর ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান জরুরি

স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর বাংলাদেশে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ দাফন নিয়ে বিরোধ, বাউলশিল...

পুলিশের হাত বাঁধা রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে?
২৭ অক্টোবর ২০২৬

পুলিশের হাত বাঁধা রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে?

থানার সামনে লেখা থাকে, ‘সেবাই পুলিশের ধর্ম’। মানুষের সুস্থ, স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা এই অ...

শিশু নিপীড়নের বিচার হোক, মাদ্রাসায় জবাবদিহি নিশ্চিত হোক
২৬ অক্টোবর ২০২৬

শিশু নিপীড়নের বিচার হোক, মাদ্রাসায় জবাবদিহি নিশ্চিত হোক

একটি শিশুকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানোর সময় কোনো মা-বাবা কি কখনো কল্পনা করেন, সুশিক্ষা ও নিরাপদ ভবিষ্য...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে