গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

ডিজিটাল বিভ্রান্তি পেরিয়ে মাঠে ফিরুক শৈশব

‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ হোক জাতীয় পুনর্জাগরণের ভিত্তি

সুখদেব কুমার সানা

সুখদেব কুমার সানা

প্রকাশিত: ১৩:৪৩ পিএম, ০৪ মে ২০২৬ | আপডেট: ২০:৩৭ এএম ২০২৬
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ হোক জাতীয় পুনর্জাগরণের ভিত্তি
ছবি

ফাইল ছবি

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রশ্নে আজ সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মের মানসিক ও সামাজিক বিকাশ। প্রযুক্তিনির্ভর এই যুগে অবারিত ইন্টারনেটের সুযোগ যেমন নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে, তেমনি এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এক ভয়াবহ বিচ্ছিন্নতা ও অবক্ষয়ের পথও তৈরি করেছে। মাঠ থেকে দূরে সরে যাওয়া, দলগত খেলাধুলা থেকে বিচ্ছিন্নতা এবং সামাজিক মেলবন্ধনের অভাব-এসবের সম্মিলিত প্রভাবে একটি প্রজন্ম ধীরে ধীরে মানসিক বিকাশের স্বাভাবিক পথ হারাচ্ছে। এই শূন্যতাকে পুঁজি করে সর্বনাশা মাদক, সহিংসতা ও অনৈতিকতার বিষাক্ত ছোবল কিশোর-তারুণ্যকে গ্রাস করছে। ফলশ্রুতিতে কিশোর অপরাধের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে-যা রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য এক অশনিসংকেত।

এই প্রেক্ষাপটে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর সূচনা নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী, দূরদর্শী এবং নীতিনির্ধারণমূলক পদক্ষেপ। ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রবর্তন করেছিলেন, তা ছিল সাংস্কৃতিক প্রতিভা বিকাশের এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ। আজকের বাস্তবতায় সেই ধারণার সম্প্রসারণ ঘটিয়ে খেলাধুলার অঙ্গনে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর যাত্রা শুরু হয়েছে-যা কেবল প্রতিভা অন্বেষণের কর্মসূচি নয়, বরং একটি সামাজিক পুনর্গঠনের কৌশল।

সিলেট জেলা স্টেডিয়াম থেকে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবং একই দিনে সুরমা নদীর তীর উন্নয়ন প্রকল্প, বাসিয়া নদী পুনঃখনন কর্মসূচি, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে এক লাখ কর্মী নিয়োগের ঘোষণা-এসব উদ্যোগ একটি সমন্বিত উন্নয়ন দর্শনের প্রতিফলন। তবে এসবের মধ্যে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি সরাসরি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানসিকতা, চরিত্র ও জীবনদৃষ্টিকে প্রভাবিত করার সক্ষমতা রাখে।

খেলাধুলার অভাবে একটি শিশু কেবল শারীরিকভাবে নয়, মানসিকভাবেও অপূর্ণ থেকে যায়। দলগত চেতনা, শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, সহনশীলতা-এসব গুণের বিকাশ ঘটে মাঠে। যখন এই স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়, তখনই তারা বিকল্প পথে বিচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। এই বাস্তবতায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ শিশু-কিশোরদের একটি ইতিবাচক প্ল্যাটফর্ম প্রদান করবে, যেখানে তারা প্রতিযোগিতা শিখবে, আত্মবিশ্বাস অর্জন করবে এবং সুস্থ জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তুলবে।

একই সঙ্গে ‘নতুন কুঁড়ি’ সাংস্কৃতিক চর্চা এবং ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর সমন্বিত প্রয়াস শিশু ও তরুণদের সুপথে পরিচালিত করতে সক্ষম হবে-এটি অনেকটাই নিশ্চিত করে বলা যায়। প্রতিভা অন্বেষণ অবশ্যই এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, কিন্তু তার চেয়েও বড় বিষয় হলো সমাজে এর ইতিবাচক প্রভাব। শিশুবেলা থেকেই সুশিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা নিশ্চিত হলে একটি প্রজন্ম সঠিক পথের দিশা পায়।

লক্ষ্যহীনতা একটি প্রজন্মকে বিপথগামী করে তোলে। যখন তাদের সামনে কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকে না, তখন তারা সহজেই বিভ্রান্তির শিকার হয়। ‘নতুন কুঁড়ি’-র এই বহুমাত্রিকতা-খেলাধুলা ও সংস্কৃতির সমন্বয়-শিশুদের সেই দিকনির্দেশনা দিতে পারে, যা তাদের সৎ, সচেতন ও সুশিক্ষিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।

তবে এই মহৎ উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের কঠোরতা ও স্বচ্ছতার ওপর। তৃণমূল পর্যায়ে সঠিক প্রতিভা বাছাই, প্রশিক্ষণের মান নিশ্চিতকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এই কর্মসূচি তার পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছাতে পারবে না।

অতএব, এখন সময় কেবল উদ্যোগ গ্রহণের নয়, বরং তা কার্যকর ও টেকসইভাবে বাস্তবায়নের। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ যদি সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, তবে এটি কেবল ক্রীড়াঙ্গনেই নয়, গোটা সমাজব্যবস্থায় এক ইতিবাচক রূপান্তরের সূচনা করবে। শৈশবকে মাঠে ফিরিয়ে এনে, বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত করে, একটি সুস্থ, শক্তিশালী ও নৈতিক বাংলাদেশ গঠনের ভিত্তি স্থাপন করাই এখন আমাদের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত। 
সানা/আপ্র/৪/৫/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাই আরো সচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগ
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাই আরো সচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগ

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর মিছিল থামছে না। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা, দীর্ঘ হচ্ছে শোকাহত পরিবারের...

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান জরুরি
২৮ অক্টোবর ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান জরুরি

স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর বাংলাদেশে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ দাফন নিয়ে বিরোধ, বাউলশিল...

পুলিশের হাত বাঁধা রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে?
২৭ অক্টোবর ২০২৬

পুলিশের হাত বাঁধা রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে?

থানার সামনে লেখা থাকে, ‘সেবাই পুলিশের ধর্ম’। মানুষের সুস্থ, স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা এই অ...

শিশু নিপীড়নের বিচার হোক, মাদ্রাসায় জবাবদিহি নিশ্চিত হোক
২৬ অক্টোবর ২০২৬

শিশু নিপীড়নের বিচার হোক, মাদ্রাসায় জবাবদিহি নিশ্চিত হোক

একটি শিশুকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানোর সময় কোনো মা-বাবা কি কখনো কল্পনা করেন, সুশিক্ষা ও নিরাপদ ভবিষ্য...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে