গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

রক্তের বিনিময়ে শিক্ষার অধিকার, আজ ঐতিহাসিক শিক্ষা দিবস

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:৩১ পিএম, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১২:২৮ এএম ২০২৬
রক্তের বিনিময়ে শিক্ষার অধিকার, আজ ঐতিহাসিক শিক্ষা দিবস
ছবি

ছবি সংগৃহীত

আজ ১৭ সেপ্টেম্বর, মহান শিক্ষা দিবস। ১৯৬২ সালের এই দিনে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যমূলক ও শিক্ষাবিরোধী নীতির প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষার্থীরা। ওই আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে ওয়াজিউল্লাহ, গোলাম মোস্তফা, বাবুলসহ কয়েকজন শহীদ হন। তাঁদের আত্মত্যাগের স্মরণে প্রতিবছর দিনটি শিক্ষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

১৯৬২ সালে পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল আইয়ুব খান একটি শিক্ষানীতি চাপিয়ে দেন। শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী ও অগণতান্ত্রিক এ নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষা সবার অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা সংকোচন নীতি বাতিল এবং গণমুখী, বিজ্ঞানমনস্ক, অসাম্প্রদায়িক ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবিতে শুরু হয় আন্দোলন।

সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৬২ সালের আগস্ট থেকেই শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করতে থাকেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘটসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ১৭ সেপ্টেম্বরের আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। একপর্যায়ে এ আন্দোলনের প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থনও বাড়তে থাকে।

১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীরা শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে মিছিল বের করেন। এ সময় ঢাকার হাইকোর্টের সামনে পুলিশ গুলি চালালে ওয়াজিউল্লাহ, গোলাম মোস্তফা ও বাবুলসহ কয়েকজন শহীদ হন। তাঁদের আত্মত্যাগ শিক্ষা অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে।

দেশজুড়ে হরতাল, দমন-পীড়নের মুখে ছাত্রনেতারা

শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের গুলির ঘটনার প্রতিবাদে ১৭ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী হরতাল পালিত হয়। এর পর সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের রোষানলে পড়েন ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ছাত্র ও যুব সংগঠনের নেতারা।

এর ধারাবাহিকতায় ১৯৬৪ সালে ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রলীগের নয় নেতার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করা হয়। তাঁরা হলেন রাশেদ খান মেনন, হায়দার আকবর খান রনো, সিরাজুল আলম খান, কে এম ওবায়দুর রহমান, বদরুল হায়দার চৌধুরী, শাহ মোয়াজ্জেম, রেজা আলী, গিয়াস কামাল চৌধুরী ও আইয়ুব রেজা চৌধুরী।

হুলিয়া হলো ফৌজদারি আইনি প্রক্রিয়ার একটি বিশেষ ঘোষণা, যা সাধারণত কোনো মামলার পলাতক আসামির বিরুদ্ধে আদালত জারি করে।

শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যহীন, গণমুখী শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে আত্মত্যাগের স্মৃতি ধারণ করে প্রতিবছর শিক্ষা দিবস পালন করা হয়। এ উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ছাত্র সংগঠন নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শহীদদের স্মরণ করে।

এসি/আপ্র/১৭/১০/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ সমিতির সভাপতি সুমন, সম্পাদক শিবলী
১৭ অক্টোবর ২০২৬

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ সমিতির সভাপতি সুমন, সম্পাদক শিবলী

মাহফুজ আলম সোহাগ, জাবি প্রতিনিধি: বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ সমিতির (বাপাজস) ২০২৭-২০২৮ মে...

অপরাধের ভিডিও করায় সাংবাদিককে হুমকি, ফোন থেকে ভিডিও মুছল শিক্ষার্থীরা
১৬ অক্টোবর ২০২৬

অপরাধের ভিডিও করায় সাংবাদিককে হুমকি, ফোন থেকে ভিডিও মুছল শিক্ষার্থীরা

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংঘর্ষ ও মারধরের ভিডিও ধারণ করায় সাংবাদিকের ম...

দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের কার্যক্রম স্থগিত
১৫ অক্টোবর ২০২৬

দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের কার্যক্রম স্থগিত

দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি গঠনের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।...

জবিতে পশু জবাই নিয়ে দুঃখ প্রকাশ, নতুন তারিখে গরু ভোজের ঘোষণা
১৫ অক্টোবর ২০২৬

জবিতে পশু জবাই নিয়ে দুঃখ প্রকাশ, নতুন তারিখে গরু ভোজের ঘোষণা

জবি প্রতিনিধি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে পশু জবাইসংক্রান্ত নির্দেশনা ঘিরে সৃষ্ট ভুল বোঝ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পরিচয় যা-ই হোক, চাঁদাবাজ-দখলদারদের ছাড় নয়: ডিএমপি কমিশনার

চাঁদাবাজ, ভূমি দখলবাজ ও মাদক কারবারে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় বা অবস্থান বিবেচনা না করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ। এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ডিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এসব নির্দেশনা দেন কমিশনার। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন- কমিশনার যে নির্দেশনা দিয়েছেন, পুলিশ সদস্যরা তা বাস্তবে তা করতে পারবেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে