নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্ল্যাকার্ড হাতে এক নেতা একক অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তিনি। তার হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল-“ছাত্রলীগের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কর, করতে হবে”, নিচে সংগঠন হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ উল্লেখ ছিল।
অবস্থানকারীর নাম ওয়াহিদুল আলম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের ২০১৬–১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং সাবেক বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণআন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুই মাস পর অন্তর্বর্তী সরকার ছাত্রলীগকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ওই সিদ্ধান্তে আন্দোলনকালীন সহিংসতা ও বিভিন্ন সময়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়।
ওয়াহিদুল আলম দাবি করেন, ছাত্রলীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও ‘রাজবন্দিদের’ মুক্তির দাবিতেই তিনি এ কর্মসূচি পালন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ‘মব সন্ত্রাস’ বন্ধের আহ্বান জানান।
বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে তিনি ঘটনাটি জেনেছেন এবং বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
তিনি আরো বলেন, এ ধরনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সাধারণত পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নেওয়া হয়।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল দাবি করেছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ধরনের কর্মকাণ্ড ক্যাম্পাসে বরদাশত করা হবে না। ছাত্রশিবির নেতারা বলেন, প্রশাসন আগেই কঠোর ব্যবস্থা নিলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না।
চাকসুর এক নেতা অভিযোগ করেন, নিষিদ্ধ সংগঠনটি এখনো গোপনে ব্যানার ও ফেস্টুনের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে, যা শিক্ষার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
সানা/ডিসি/আপ্র/১৯/৪/২০২৬