রাজনৈতিক নেতাদের লক্ষ্য করে পচা ডিম নিক্ষেপের প্রতিবাদী প্রবণতা ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে তৈরি হয়েছে এক ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি। যে পচা ডিম একসময় ফেলে দেওয়া হতো, এখন সেটিই বাজারে চাহিদার শীর্ষে উঠে এসেছে। স্থানীয় বাজারে এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে যে ভালো ডিমের চেয়ে পচা ডিমের দাম প্রায় দ্বিগুণ পর্যন্ত পৌঁছেছে।
রাজ্যজুড়ে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা ও দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে জনঅসন্তোষ প্রকাশের ধরন হিসেবে পচা ডিম নিক্ষেপের ঘটনা বাড়ছে। বিশেষ করে অভিযুক্ত বা বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আদালত, থানা বা জনসমক্ষে আনা হলে তাদের লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
এই ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে সামাজিকভাবে এক ধরনের প্রতীকী প্রতিবাদের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, যাকে অনেকে ব্যঙ্গ করে ‘ডিম থেরাপি’ বলেও অভিহিত করছেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন পক্ষও এই ধরনের প্রতিক্রিয়াকে নিজেদের অবস্থান জানানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে।
এদিকে ডিম নিক্ষেপের প্রবণতা বাড়ায় স্থানীয় বাজারে পচা ডিমের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তর চব্বিশ পরগনার এক পাইকারি ডিম বিক্রেতা জানান, আগে যেসব ডিম অবিক্রিত থেকে নষ্ট হতো, এখন সেগুলোই আলাদা করে বিক্রি হচ্ছে। অনেক ক্রেতা বিশেষভাবে পচা ডিম সংগ্রহ করতে আসছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাজারে এখন ভালো ডিমের দাম যেখানে নির্দিষ্ট একটি পর্যায়ে রয়েছে, সেখানে পচা ডিমের দাম তার প্রায় দ্বিগুণ পর্যন্ত উঠছে বলে বিক্রেতারা দাবি করছেন। ফলে ডিম ব্যবসায়ীদের মধ্যেও একটি নতুন অর্থনৈতিক প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সামাজিক ক্ষোভ প্রকাশের এই অভিনব ধরন একদিকে যেমন জনমনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করছে। অনেক সময় নিক্ষিপ্ত ডিম লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের গায়েও পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ঘটনার একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি আরো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। তবে এই প্রবণতা সাময়িক প্রতিবাদ নাকি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সংস্কৃতিতে রূপ নেবে, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে বিশ্লেষকদের মধ্যে।
সানা/ডিসি/আপ্র/১৪/৬/২০২৬