মহান মুক্তিযুদ্ধে অস্ত্র হাতে দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়েছিলেন তিনি। যুদ্ধ শেষে বিধ্বস্ত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও তরুণদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে শুরু করেছিলেন আরেক সংগ্রাম। কর্মমুখী শিক্ষা, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তা সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক মুক্তিতে আজীবন কাজ করে গেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইমামুল কবীর শান্ত।
তাঁর ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রোববার (১৪ জুন) রাজধানীর শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির মিলনায়তনে আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন দেশের বরেণ্য চিত্রকর ও কার্টুনিস্ট ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুন নবী।
তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পর দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রধান শক্তি হিসেবে তরুণ প্রজন্মকে দেখেছিলেন ইমামুল কবীর শান্ত। তাই তিনি কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার, দক্ষ জনশক্তি গঠন এবং দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে একের পর এক শিক্ষা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর কর্মযজ্ঞ আজও হাজারো মানুষের জীবনে প্রেরণার উৎস।”
শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশন, শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি এবং সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস (প্রা.) লি.-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইমামুল কবীর শান্তের জীবন ও কর্মের ওপর অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় বক্তারা তাঁকে একজন দূরদর্শী উদ্যোক্তা, শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও দেশপ্রেমিক হিসেবে অভিহিত করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এবং মরহুমের জীবনভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র ‘দীপ্তপ্রাণ’ প্রদর্শন করা হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশন ও সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস (প্রা.) লি.-এর চেয়ারম্যান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ডা. মো. আহসানুল কবির।
শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শাহ-ই-আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মরহুমের কর্মময় জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন শিক্ষাবিদ, শিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা। তাঁরা বলেন, স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তিনি নিরলস কাজ করে গেছেন।
এ সময় শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুন নবীর হাতে ‘ইমামুল কবীর শান্ত সম্মাননা স্মারক’ তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোস্তাফিজুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন, বিশিষ্ট নজরুলসংগীতশিল্পী সুজিত মোস্তফা, সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের ভাইস চেয়ারম্যান মো. হাফিজুর রহমান পুলকসহ বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্টজন উপস্থিত ছিলেন।
পরে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কোরআন খতম, কবর জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণের কর্মসূচি পালন করা হয়।
উল্লেখ্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইমামুল কবীর শান্ত ২০২০ সালের ৩০ মে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা সিএমএইচে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। মাত্র ১৭ বছর বয়সে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া এই উদ্যোক্তা পরবর্তী সময়ে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সমাজসেবাকে জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো আজও দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণে ভূমিকা রেখে চলেছে।
সানা/ওমায়ের/আপ্র/১৪/৬/২০২৬