‘৫ আগস্টের আগে মেঘনা আলম রাজনীতিতে কোথায় ছিলেন?’—এমন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন মডেল ও আলোচিত ব্যক্তিত্ব মেঘনা আলম। নিজের রাজনৈতিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের বিবরণ দিয়ে তিনি দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ছিলেন। তবে কখনো প্রচার কিংবা রাজনৈতিক পদ-পদবির জন্য কাজ করেননি।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন মেঘনা। একই পোস্টে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ৫ আগস্টের আগে জামায়াতের আমির ও সাদিক কায়েম কোথায় ছিলেন?
মেঘনার দাবি, তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাজনীতি নিয়ে কাজ করছিলেন। নির্দলীয় অবস্থান থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ছিলেন। একই সঙ্গে সরকার ও বিশ্বব্যাংকের গাফিলতির বিরুদ্ধেও সরব ছিলেন।
নিজের মানবিক কর্মকাণ্ডের বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, বিভিন্ন ধরনের হরতাল, শিল্পকারখানায় দুর্ঘটনা এবং প্রতিহিংসার শিকার মানুষের চিকিৎসা ও জীবনমানের দায়িত্ব পালনে কাজ করেছেন। তাঁর দাবি, ইউনূসের ঘনিষ্ঠজন এবং বিএনপির নেতাকর্মীরাও তাঁর এসব মানবিক উদ্যোগের সুফল পেয়েছেন।
মেঘনা আরো দাবি করেন, সাংস্কৃতিক শক্তিকে ধারণ করে কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। ভারতীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের আধিপত্যের বিরুদ্ধে ১০ বছরের বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সরব ছিলেন।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ফেসবুক পোস্টে মেঘনা লেখেন, ‘কখনও গুপ্ত ছিলাম না, কখনও রাজনৈতিক পদ-পদবির জন্য আগ্রহী ছিলাম না। কখনও প্রচার করিনি।’
নিজের বিরুদ্ধে হয়রানি ও অপপ্রচারের অভিযোগও তুলেছেন তিনি। মেঘনার ভাষ্য, ড. ইউনূসের সরকারের আমলে বিনা অপরাধে হয়রানির শিকার না হলে এবং গণমাধ্যমে তাঁর পরিচয় নিয়ে বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে দুর্নাম করা না হলে, তিনি হয়তো নীরবেই দেশের জন্য কাজ করে যেতেন।
পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, ‘ইউনূসের আমলে বিনা অপরাধে হেনস্থার শিকার না হলে, মিডিয়া সন্ত্রাস করে বানোয়াট পরিচয়ে আমার দুর্নাম না হলে, আমি সারাজীবন চুপ করেই দেশের জন্য কাজ করে যেতাম।’
৫ আগস্টের আগে তাঁর রাজনৈতিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে দেওয়া পোস্টে নিজের দীর্ঘদিনের ভূমিকার কথাই তুলে ধরেছেন মেঘনা আলম। তবে পোস্টে উল্লেখ করা কর্মকাণ্ড ও অভিযোগগুলো তাঁর ব্যক্তিগত দাবি।
এসি/আপ্র/০৩/১১/২০২৬