বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে বাড়ি বলে তাকে অনেক সময় ডাকা হয় ‘বাংলাদেশের মেয়ে’। সহকর্মীদের যে ডাকটির মধ্যে থাকে খুনসুটি আর স্নেহ। এই তরুণীর নাম মিষ্টি সিংহ রায়। কাজ শুরু করেছেন কলকাতার সিরিয়ালে। সাংবাদমাধ্যম ‘এই সময়’ জানিয়েছে, বনগাঁর মেয়ে মিষ্টি বেশ কিছুদিন মডেল হিসেবে কাজ করেছেন।
সোশাল মিডিয়াতেও তার পরিচিতি বাড়তে শুরু করে।এর আগে নানা কারণে বড় কাজের সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। অবশেষে মডেল থেকে ধারাবাহিকের নায়িকা হয়েছেন তিনি। ‘এই সময়’কে সেই গল্প শুনিয়েছেন মিষ্টি। এসএসসি পাস করার পর মডেলিং শুরু করেন তিনি। বাড়ি বাংলাদেশের সীমান্তে বলে তাকে ইন্ডাস্ট্রিতে কি বলা হয় সে কথাও বলেছেন।
মিষ্টি বলেন, “আমার বাড়ি বনগাঁয়। সেখান থেকে বাংলাদেশের বর্ডার খুব দূরে নয়। মাঝেমাঝে মজা করে ‘বাংলাদেশের মেয়ে’ বলে আমাকে খ্যাপানো হয়। তাছাড়া কথার একটা টানও তো থাকে। সেটা আমারও আছে।
আবার স্থানীয় কিছু ভাষাও থাকে। সে সব মাঝেমাঝে বলে ফেলি। সেগুলো নিয়ে মজা হয়। কিন্তু আমার মনে আঘাত লাগে, এমন কোনও কথা কখনও কেউ বলেনি।” মিষ্টি ছোটবেলা থেকেই ভাবতেন বড় হয়ে এমন কোনো কাজ করবেন, যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা কোনো ব্যক্তিত্ব হিসেবে গড়ে তুলবে। সিনেমা-সিরিয়াল দেখে অভিনয় তাকে বেশি আকৃষ্ট করে।
কিন্তু মুখ ফুটে কিছু বলতেন না। কারণ, বিনোদন দুনিয়াকে বাবা-মা ভালো চোখে দেখতেন না। “উচ্চ মাধ্যমিক দেওয়ার পরে ঠিক করলাম, এ বার আমার স্বপ্ন সত্যি করার সময় এসেছে। তখন থেকে শুরু হল আমার মডেলিং-এর জার্নি।
বাবা-মা তো একেবারেই মানবে না। আমরা পাঁচ ভাইবোন। আমি মেজো। মা-বাবা চাইত আমি পড়াশোনা করে চাকরি করি। কিন্তু আমি চাইতাম উল্টোটা। বাড়িতে অনেক বুঝিয়ে তার পরে মডেলিং শুরু করি।” ধীরে ধীরে সোশাল মিডিয়ায় রিল, ভিডিও শেয়ার করে নিজের পরিচিতি তৈরি করেন বলেও জানিয়েছেন মিষ্টি।
তিনি বলেন, কিছু দিন আগে কলকাতার প্রযোজনা সংস্থা ‘টেন্ট ভিডিও’ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। “আমি অডিশন দিই। লুক টেস্ট হয়। তখনও ধারাবাহিকে আমার চরিত্রটি সম্পর্কে ডিটেলসে কিছু জানতাম না।
শুধু শুনেছিলাম যে, মেয়েটি বাস কিংবা অটো কিছু একটা চালায়।” ‘ভালোবাসার রং রুট’ নামে ধারাবাহিকে কাজ কাজ করছেন জানিয়ে মিষ্টি বলেন, “লুক টেস্টের পরে জানানো হল, আমি কাজটা করছি। ভয়ে তো আমার হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে গিয়েছিল। আমাদের প্রযোজক সুশান্তদা (দাস) সাহস দিলেন।
বললেন, এটা আমি পারব।” টেলিভিশনের পর্দায় মেয়েকে দেখতে পাওয়ায় মা খুশি বলেও জানিয়েছেন মিষ্টি। “আসলে আমি যখন শুরুর দিকে মডেলিং করতাম, তখন অনেক সময়ই রাত হয়ে যেতে বাড়ি ফিরতে।
পাড়ার লোকে নানা কথা বলত। মায়ের খারাপ লাগত। এখন যখন আমাকে টিভিতে দেখতে পারছে মা, আনন্দে কেঁদে ফেলে।” এখন বনগাঁয় প্রতিবেশীরাও তার এই উত্থানে খুশি বলে ভাষ্য মিষ্টির।
ডিসি/আপ্র/০৪/০৮/২০২৬