জীবনের কঠিন সময় পেরিয়ে কৃষিকেই নতুন স্বপ্নের পথ হিসেবে বেছে নিয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা এএম আলী হায়দার নাফিজ। ইতোমধ্যেই সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে তুলে অনন্য সফলতা অর্জন করেছেন তিনি। একই জায়গায় বিষমুক্ত শাকসবজি চাষ, পুকুরে বৈজ্ঞানিক উপায়ে মাছ চাষের পাশাপাশি ছাগল, ভেড়া ও গাড়ল পালনের মাধ্যমে ‘জিনিয়াস অ্যাগ্রো’ নামে তিনি তৈরি করেছেন এক দৃষ্টান্তমূলক সমন্বিত কৃষি প্রকল্প।
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নের উত্তমপুর গ্রামে আলী হায়দার গড়ে তুলেছেন এই খামার। সেখানে বছরজুড়ে বিভিন্ন প্রকার শাক-সবজি, ফলমূলের পাশাপাশি ফসল এবং মাছ চাষ করা হয়। এই খামারে তিনি এখন পর্যন্ত সাতজন লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। আর এসব কিছু দেখাশোনা করেন তার বাবা মো. সিরাজুল ইসলাম।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, খামারে শাকসবজির গাছ তথা লাউ শাক, কুমার শাক, শসা, বরবটি, করলা ও বিভিন্ন ডাটা শাক রয়েছে। পুকুরে শিং মাছ, কই মাছ ও তেলাপিয়া মাছ। এ ছাড়া জাপানি মালটা, চায়না কমলা, কাঠবাদাম, কাজু বাদামসহ বিভিন্ন বিদেশি ফলও রয়েছে তার খামারে। এসবের পাশাপাশি ছাগল, ভেড়া ও গাড়ল রয়েছে খামারটিতে।
তরুণ উদ্যোক্তা এ. এম আলী হায়দার নাফিজ জানান, প্রবাসী এক স্বজনের পরামর্শে নিজ গ্রামে শুরু করেন কৃষি কাজ। প্রথমে অল্প জমিতে সবজি চাষ শুরু হলেও একে একে যুক্ত হয় মাছ, পশুপালন আর ফলনের বাগান। বর্তমানে এই জিনিয়াস অগ্রোফার্মে প্রায় ১০০টি ছাগল, ভেড়া ও গাড়ল রয়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও জমিতে চাষ করা হচ্ছে নানা ধরনের শাকসবজি- যা দেখভাল করছেন কর্মচারীরা।
আলী হায়দার এলাকার সবার কাছে এখন একজন সফল উদ্যোক্তা। তার এই খামার থেকে প্রতি মাসে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকার সবজি বিক্রি হয়। প্রতি তিন থেকে চার মাসে ২০-২৫ মন মাছ বিক্রি হয়। এ ছাড়া ১০০টি ভেড়া, ছাগল ও গাড়লে প্রতি ছয় মাসে অন্তত দু’একটি করে বাচ্ছা জন্ম দেয়। কৃষি ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শে খামারের পরিধি আরও বাড়াতে চান এবং খুব শিগগিরই হরিণ পালন করতে চান এই উদ্যোক্তা।
আলী হায়দারের খামারের শ্রমিক মো. বিল্লাল ছাগল, ভেড়া ও গাড়লের দেখভাল করেন। তিনি বলেন, ‘মোটামুটি ভালোই প্রফিট দেখা যাইতেছে। তারপর ছাগল, ভেড়া ও গাড়ল আরও কিছু বাড়াইছি। আশা করি, ভাবষ্যতে খামার আরও বড় হবে, ইনশাআল্লাহ।’
মাছ পালনে অভিজ্ঞ মো. মান্নান বলেন, আমরা নিজেরা খাই এবং বাজারে বিক্রি করি। মাছ চাষ বাড়াতে আমরা আরও কয়েকটি পুকুর কাটার চিন্তাভাবনা করেছি।
আলী হায়দার নফিজ জানান, শুরুতে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও সঠিক পরিকল্পনা, ধৈর্য এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আজ খামারটি একটি লাভজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সমন্বিত কৃষি পদ্ধতির মূল সুবিধা হলো, এখানে একটি উপাদানের বর্জ্য অন্যটির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা যায়, ফলে উৎপাদন খরচ কম হয় এবং লাভের অনুপাত বাড়ে। ভবিষ্যতে নিজের খামারটিকে আরও বড় করার এবং স্থানীয় অন্যান্য তরুণদের খামার তৈরিতে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এই সফল উদ্যোক্তার।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, ওনার খামারে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ এবং ফলজ ও বনজ বৃক্ষ রয়েছে। এ ছাড়া ওনারা বন বিভাগ থেকে হরিণ পালনের অনুমোদন নিয়েছেন। খামারে একটি শেড তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে হরিণ পালন করবেন। আমরা বেশ কয়েকবার খামারটি পরিদর্শন করেছি। বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করেছি।
কেএমএএ/আপ্র/০৪.১০.২০২৬