গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

ঔষধি গাছ চাষে কৃষকের আয় বৃদ্ধিসহ শক্তিশালী করবে অর্থনীতি

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৪৯ পিএম, ১১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২১:৫৫ এএম ২০২৬
ঔষধি গাছ চাষে কৃষকের আয় বৃদ্ধিসহ শক্তিশালী করবে অর্থনীতি
ছবি

ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি এখনো অনেকটাই কৃষিনির্ভর। গ্রামের মানুষের আয়, জীবিকা ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে কৃষির সম্পর্ক অনেক পুরোনো। তবে শুধু প্রচলিত ফসলের ওপর নির্ভর করে কৃষকের আয় বৃদ্ধি করা সহজ নয়। তাই আয়ের নতুন সুযোগ খুঁজে দেখা জরুরি। এক্ষেত্রে ঔষধি গাছের চাষ গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। সঠিক পরিকল্পনা ও ভালো বাজার ব্যবস্থা গড়ে উঠলে ঔষধি গাছ চাষ গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন দ্বার খুলে দিতে পারে; বিশেষ করে কৃষি জমির সর্বোত্তম ব্যবহার, আয় বৃদ্ধির নতুন পথ এবং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান তৈরির প্রয়োজনীয়তা ঔষধি চাষের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

আমাদের দেশে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো ও চাষযোগ্য নানা ধরনের ঔষধি উদ্ভিদ আছে। তুলসি, থানকুনি, অ্যালোভেরা, নিম, কালোজিরা, হলুদ ও আদার মতো গাছপালা মানুষের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত। এসব উদ্ভিদ বাড়ির আঙিনা, পতিত জমি কিংবা অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি চাষ করা সম্ভব। ফলে কৃষক প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি ঔষধি উদ্ভিদ চাষ করে বাড়তি আয় করার সুযোগ পাবেন। এতে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি গ্রামের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

ঔষধি চাষের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা শুধু গাছ চাষ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। একটি ঔষধি গাছ জমি থেকে বাজারে পৌঁছানো পর্যন্ত সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেট করা ও বিক্রির মতো নানা কাজ করতে হয়। এসব কাজে গ্রামের অনেক মানুষ যুক্ত হতে পারেন। এর ফলে একজন কৃষকের উৎপাদিত ফসলে শুধু কৃষকেরই নয় প্যাকেজিং কর্মী, পরিবহনকর্মী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

একটি ফসলের উৎপাদন থেকে শুরু করে সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং ও বাজারজাতকরণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত অনেক মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকার পথ তৈরি হতে পারে। এর ফলে ঔষধি চাষকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে ছোটখাটো ব্যবসা গড়ে উঠবে এবং অনেকের কাজের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি গ্রামের মানুষের আয় বাড়বে এবং অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। গ্রামীণ নারীদের জন্যও ঔষধি চাষে কাজের ভালো সুযোগ আছে।

বাড়ির আশপাশের অল্প জায়গায় ঔষধি গাছ চাষ, চারা উৎপাদন, উদ্ভিদ সংগ্রহ ও প্রাথমিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করার কাজে নারীরা সহজেই যুক্ত হতে পারেন। এর মাধ্যমে তারা ঘরে বসেই আয় করার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি পরিবারের আয় বাড়াতে অবদান রাখার পাশাপাশি নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণও বাড়বে। দেশের ঔষধ ও হারবাল পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ঔষধি উদ্ভিদের কাঁচামালের প্রয়োজন আছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কৃষকদের কার্যকর বাজার সংযোগ তৈরি করা গেলে উৎপাদিত ঔষধি উদ্ভিদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য বাজার গড়ে উঠতে পারে। এতে কৃষকেরা সম্ভাব্য ক্রেতা ও বাজারের চাহিদা সম্পর্কে আগেই ধারণা নিতে পারবেন। এর পাশাপাশি মানসম্মত উৎপাদন নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এসব ঔষধি উদ্ভিদ প্রক্রিয়াজাত করে ঔষধ ও হারবাল পণ্য হিসেবে বাজারে পৌঁছানোর সুযোগও তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া মানসম্মত উৎপাদন নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রক্রিয়াজাত ঔষধি পণ্য বিদেশের বাজারেও পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে উৎপাদনের পরিমাণের পাশাপাশি গুণগত মান, সঠিক সংরক্ষণ এবং নির্ভরযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তা হলে কৃষকের উৎপাদন শিল্পের প্রয়োজনের সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত হতে পারে।

গ্রামের নারীদের জন্যও ঔষধি চাষের এই খাতে কাজের সুযোগ আছে। বাড়ির আঙিনা বা অল্প জায়গায় ঔষধি গাছ চাষ, চারা উৎপাদন, উদ্ভিদ সংগ্রহ, শুকানো ও প্রাথমিক প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজে নারীরা যুক্ত হতে পারেন। এর মাধ্যমে তাদের আয় বাড়তে পারে এবং পরিবারে আর্থিকভাবে অবদান রাখার সুযোগ তৈরি হবে। একইভাবে স্থানীয় তরুণদের এই কাজে যুক্ত করা গেলে গ্রামেই কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।

পরিকল্পিতভাবে এগোতে পারলে ভবিষ্যতে ঔষধি চাষ ঘিরে গ্রামভিত্তিক ক্ষুদ্র শিল্প উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ ও বাড়তে পারে। ঔষধি চাষকে শুধু একটি বিকল্প ফসল হিসেবে দেখলে এর সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হবে না। এই খাতের উন্নয়নের সঙ্গে কৃষি, বাজারব্যবস্থা, প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, উদ্যোক্তা তৈরি ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলোকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং কার্যকর বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে ঔষধি চাষ গ্রামীণ মানুষের বাড়তি আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী হবে।

কেএমএএ/আপ্র/০৪.১০.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

মানববসতি ও নদীভাঙনে বছরে হারাচ্ছে ৮০ হাজার হেক্টর কৃষিজমি
১১ অক্টোবর ২০২৬

মানববসতি ও নদীভাঙনে বছরে হারাচ্ছে ৮০ হাজার হেক্টর কৃষিজমি

দেশে নগরায়ণ বৃদ্ধির সঙ্গে আবাসন, সড়ক, শিল্প ও অন্যান্য অবকাঠামোর চাহিদাও বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে জলবা...

খাদ্য নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ২০ হাজার কৃষি উদ্যোক্তা
১১ অক্টোবর ২০২৬

খাদ্য নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ২০ হাজার কৃষি উদ্যোক্তা

কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি নিশ্চিতে সারা দেশে ২০ হাজার কৃষি উদ্যোক্তা তৈরীর উদ্যোগ নিয়েছে সর...

মাছ, সবজি ও পশু পালনে সফল তরুণ উদ্যোক্তা নাফিজ
১১ অক্টোবর ২০২৬

মাছ, সবজি ও পশু পালনে সফল তরুণ উদ্যোক্তা নাফিজ

জীবনের কঠিন সময় পেরিয়ে কৃষিকেই নতুন স্বপ্নের পথ হিসেবে বেছে নিয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা এএম আলী হায়দার না...

বন্যায় ৮৭৮ কোটি টাকার ক্ষতি কাটাতে কৃষকের করণীয়
১১ অক্টোবর ২০২৬

বন্যায় ৮৭৮ কোটি টাকার ক্ষতি কাটাতে কৃষকের করণীয়

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান জলবায়ুগত। এ বৈশিষ্ট্যের কারণে প্রায় প্রতি বছরই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিল...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

অটোরিকশার দাবির পক্ষে বলা নেতার আছে ৭০০ বাহন

অটোরিকশা চালকদের দাবি মেনে নেওয়ার পক্ষে বক্তব্য দেওয়া জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, জনগণের কাছে বারবার খোলস বদলে পার পাওয়া যাবে না। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মিরপুর-১২ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেলের পিলারে জুলাইয়ের চিত্রাঙ্কন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি করেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সাত শ অটোরিকশা থাকার অভিযোগকে কাল্পনিক, অসত্য ও ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে এর পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ চেয়েছে দলটি| প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন প্রশাসক সত্য বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে