গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

স্বাস্থ্য প্রতিদিন===

দুপুরে খাওয়ার পর ঘুম আসার মূল কারণ রক্তের শর্করা

খান মুহঃ আশরাফুল আলম

খান মুহঃ আশরাফুল আলম

প্রকাশিত: ২০:২৪ পিএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২১:১৫ এএম ২০২৬
দুপুরে খাওয়ার পর ঘুম আসার মূল কারণ রক্তের শর্করা
ছবি

ছবি সংগৃহীত

খান মুহঃ আশরাফুল আলম

দুপুর ৩টা বাজতে না বাজতেই হঠাৎ মাথা ঘোরানো বা শরীরজুড়ে ক্লান্তি নেমে আসা আমাদের অনেকের কাছেই খুব পরিচিত এক অভিজ্ঞতা। অনেকেই তখন ভাবেন- ‘দুপুরের খাবারের ডাল-ভাতের জন্যই কি এমনটা হচ্ছে?’ অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, চোখ খুলে রাখাই দায় হয়ে পড়ে। ঘন ঘন হাই উঠতে থাকে এবং বিকেলের আসন্ন মিটিংয়ের কথা ভেবে শরীরে এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করে। এ ক্লান্তি দূর করতে অনেকেই হয়তো কাপের পর কাপ চা বা কফির আশ্রয় নেন। কিন্তু দেখা যায়, বিকেল ৫টা বাজতে না বাজতেই (চা-কফি আর টোস্ট খাওয়ার পরও) আবারও তীব্র ক্ষুধা পেয়ে বসে।

অধিকাংশ মানুষই দুপুরের ক্লান্তিকে গ্রীষ্মের গরম, ঘুমের অভাব, কাজের চাপ কিংবা বয়সের দোষ বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, এর পেছনে আসল কারণ হতে পারে আপনার রক্তের শর্করা বা ব্লাড সুগার? দুপুরের খাবারের পর শরীরে যে অলসতা বা ঝিমুনি আসে, তা মূলত রক্তে শর্করার তীব্র ওঠানামার (স্পাইক) একটি সরাসরি প্রতিক্রিয়া। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ লক্ষণটিকে অবহেলা করা একদমই উচিত নয়।

খাবার খাওয়ার পর শরীরের অভ্যন্তরীণ বিজ্ঞান: আমরা যখন রুটি, ভাত বা পাউরুটির মতো শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার খাই, তখন আমাদের শরীর সেগুলোকে ভেঙে গ্লুকোজে রূপান্তর করে। এই গ্লুকোজ সরাসরি রক্তে প্রবেশ করে। এর প্রতিক্রিয়ায় অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন হরমোন নিঃসৃত হয়- যা কোষগুলোকে গ্লুকোজ শোষণ করতে সাহায্য করে এবং শরীরে শক্তি জোগায়। এটি একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া।

সমস্যাটি তখনই তৈরি হয়- যখন রক্তে শর্করার মাত্রা খুব দ্রুত এবং অতিরিক্ত মাত্রায় বেড়ে যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে বলা হয় ‘পোস্টপ্র্যান্ডিয়াল গ্লুকোজ স্পাইক’ (খাবারের পর শর্করার আকস্মিক বৃদ্ধি)। আশঙ্কার বিষয় হলো- যাদের সকালে খালি পেটে রক্তের শর্করার মাত্রা একদম স্বাভাবিক দেখায়, তাদের শরীরেও খাবারের পর এমন তীব্র স্পাইক দেখা দিতে পারে। খালি পেটের পরীক্ষাটি কেবল সকালের চিত্র দেয়। কিন্তু সারাদিন ধরে বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে আপনার শরীর কেমন আচরণ করছে, তা এতে ধরা পড়ে না। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাপন করেও অনেকেই অজান্তেই খাবারের পর উচ্চ রক্ত শর্করার ঝুঁকিতে থাকেন।

ডায়াবেটিস না থাকলেও কি সতর্ক হওয়া জরুরি: অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, ‘আমার তো ডায়াবেটিস নেই; তাহলে আমি কেন এটি নিয়ে ভাবব?’ চিকিৎসকদের মতে, বর্তমান আধুনিক জীবনযাত্রা ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যভাসের কারণে খাবারের পর এই ব্লাড সুগার স্পাইক আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে শরীরে মারাত্মক দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।

শক্তির আকস্মিক পতন (এনার্জি ক্র্যাশ): দুপুরের খাবারের পরের ঝিমুনি কোনো অলসতা নয়, বরং রক্তে শর্করার তীব্র ওঠানামার ফল। রক্তে শর্করা যখন হঠাৎ খুব উঁচুতে উঠে আবার খাড়া নিচের দিকে নেমে যায়, তখনই শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ে। সারাদিন কর্মক্ষম থাকার জন্য রক্তে শর্করার একটি স্থিতিশীল বা সমান্তরাল গ্রাফ বজায় রাখা জরুরি।

অকাল ও তীব্র ক্ষুধা: ডাল, রুটি এবং সবজি দিয়ে পেটভরে খাওয়ার পরও দেখা যায় অনেকেই কিছুক্ষণ পর ড্রয়ারে স্ন্যাক্স বা বিস্কুট খুঁজছেন। অনেকেই ভাবেন এটি তাদের খাদ্যাভ্যাসে আত্মনিয়ন্ত্রণের অভাব। কিন্তু বাস্তবে এটি রক্তে শর্করার হঠাৎ পতন এবং হরমোনের উদ্দীপনার কারণে ঘটে থাকে।

অভ্যন্তরীণ প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন: রক্তে শর্করার এই নিয়মিত ওঠানামা শরীরের ভেতরে দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ তৈরি করে। যার ফলে আজকাল অল্প বয়সেই ফ্যাটি লিভার (গ্রেড ২ বা ৩), পিসিওএস এবং হৃদরোগের মতো জটিলতা দেখা দিচ্ছে- যা পরবর্তীতে ডায়াবেটিসে রূপ নিতে পারে।

সমাধান ও খরচ ছাড়াই কার্যকর কিছু কৌশল: রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কোনো দামি গ্যাজেট বা ‘কন্টিনিউয়াস গ্লুকোজ মনিটর’ কেনার প্রয়োজন নেই। দৈনন্দিন অভ্যাসে কিছু ছোট পরিবর্তনই বড় পার্থক্য এনে দিতে পারে। তা হলো-

খাবার খাওয়ার ক্রমপরিবর্তন: দুপুরের খাবারে কার্বোহাইড্রেট (ভাত বা রুটি) মুখে তোলার আগে প্রোটিন এবং ফাইবারযুক্ত শাকসবজি বা সালাদ খান। কেবল এই একটি অভ্যাসের মাধ্যমেই খাবারের পরের সুগার স্পাইক প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব।

শর্করা বা ‘নেকেড কার্বস’ পরিহার: শুধু মাখন-পাউরুটি, প্লেইন পরোটা কিংবা এক বাটি সাদা ভাত একা খাবেন না। শর্করার সঙ্গে সবসময় পনির, ডিম, টকদই, ডাল বা সবজি যুক্ত করুন। এগুলো গ্লুকোজ শোষণের গতিকে ধীর করে দেয়।

খাবার পর হাঁটার অভ্যাস: খাওয়ার পর পরই অলসভাবে বসে না থেকে অন্তত ১০-১৫ মিনিট হাঁটাহাঁটি করুন। একে বাড়তি কাজ মনে না করে এই সময়ে মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে পারেন বা কোনো বন্ধুর সঙ্গে আড্ডা দিতে পারেন। এই সামান্য হাঁটার ফলে শরীরের পেশিগুলো ইনসুলিনের অতিরিক্ত সাহায্য ছাড়াই রক্ত থেকে গ্লুকোজ শোষণ করে নেয়।

সবশেষে খাবার নিয়ে অতিরিক্ত আতঙ্কিত হওয়া বা সারাক্ষণ ডায়াবেটিসের ভয়ে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। মূল লক্ষ্য হলো নিজের শরীরের প্রতি সচেতনতা তৈরি করা, নিখুঁত হওয়া নয়।

লেখক: সাংবাদিক

কেএমএএ/আপ্র/২৫.০৯.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

হামের উপসর্গ নিয়ে একদিনে আরো ৯ জনের মৃত্যু
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হামের উপসর্গ নিয়ে একদিনে আরো ৯ জনের মৃত্যু

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরো ১ হাজার ৩৪১...

ডেঙ্গুতে আরো ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৪৩২
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডেঙ্গুতে আরো ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৪৩২

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি...

আজ থেকে হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন শুরু
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আজ থেকে হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন শুরু

সারা দেশে হামের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যেই আবার শুরু হচ্ছে বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন। এই ক্যা...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

আওয়ামী লীগের দোসরদের গ্রেফতারে পুরস্কারের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দোসরদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের গোয়েন্দা তথ্য কাজে লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে এ ধরনের ব্যক্তিদের গ্রেফতারে যারা ভূমিকা রাখবেন, তাদের পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মন্ত্রীর এই ঘোষণার পক্ষে না বিপক্ষে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 19 ঘন্টা আগে