গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

মেনু

মায়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষাই হোক এবারের উপহার

স্বাস্থ্য ডেস্ক

স্বাস্থ্য ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৩৩ পিএম, ০৬ মে ২০২৬ | আপডেট: ১২:৩৬ এএম ২০২৬
মায়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষাই হোক এবারের উপহার
ছবি

ছবি সংগৃহীত

মা দিবসে মায়ের জন্য নানা রকম উপহারের কথা ভাবেন সন্তানরা। এবার না হয় মায়ের সুস্থতার খোঁজটুকু নিই। মা দিবসের উপহার হতে পারে- মাকে একবার চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া, একটা রুটিন চেক আপের ব্যবস্থা করা।

ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ: চল্লিশের পর থেকেই বাড়তে থাকে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি রোগের ঝুঁকি। বাড়ির অন্যদের রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের ওষুধ খাইয়ে দেন মা, কিন্তু হয়তো তার নিজের শর্করা বা রক্তচাপ কখনোই মাপা হয় না। বছরে অন্তত একবার খালি পেটে ও গ্লুকোজ খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর রক্তের শর্করা মাপা উচিত। তা সম্ভব না হলে রক্তের গড় শর্করা এইচবিএওয়ানসি দেখেও সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। রক্তচাপ মাপা তো সহজ বিষয়। এর সঙ্গে আরেকটা চেকআপও দরকারি- রক্তের লিপিড প্রোফাইল বা চর্বির মাত্রা। হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি বৈকল্যসহ নানা জটিল রোগের উৎস হলো এই ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ ও রক্তে চর্বির আধিক্য।

রক্তশূন্যতা: আমাদের দেশে নারীদের রক্তশূন্যতা খুবই পরিচিত সমস্যা। রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা গড়পড়তা প্রত্যেক নারীরই কমের দিকে থাকে। বাড়িতে পড়ে থাকলেও তাজা ফলমূল, শাকসবজি তাদের বেশি খাওয়া হয় না। রক্তশূন্যতা আছে কি না, দেখতে রক্তের একটা সিবিসি করতে হয়। হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম থাকলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। কেবল আয়রনের অভাবেই যে রক্তশূন্যতা হয়, তা কিন্তু নয়। অনেক সময় ফলিক এসিড বা ভিটামিন বি১২-এর অভাবেও রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। রক্তশূন্যতা হলে ক্লান্তি, অবসাদ, মাথা ঝিমঝিম, ফ্যাকাশে ভাব, মুখে ঘা হতে পারে; এমনকি জটিল কোনো রোগের উপসর্গও হতে পারে রক্তশূন্যতা।

থাইরয়েড: নারীদের, বিশেষ করে মধ্যবয়সী নারীদের থাইরয়েডজনিত সমস্যা খুবই সাধারণ। নারীদের হাইপোথাইরয়েডিজম বা থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতিই বেশি দেখা যায়। এটি হলে ক্লান্তি, অবসাদ, ঘুম ঘুম ভাব, ওজন বৃদ্ধি, কোষ্ঠকাঠিন্য, শুষ্ক ত্বক, চুল পড়া–জাতীয় সমস্যা দেখা দেয়। তেমন কোনো উপসর্গ না থাকলেও থাইরয়েড হরমোনের পরীক্ষা নারীদের জন্য একটি রুটিন পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই এ সুযোগে রক্তের টিএসএইচ ও ফ্রি টিফোর পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।

ভিটামিন ডি: বাংলাদেশে নারীদের ভিটামিন ডির অভাব খুবই প্রকট। বিশেষ করে যাঁরা বাড়ির বাইরে রোদে একেবারেই বের হন না। ভিটামিন ডির অভাবে ক্লান্তি, পেশিতে কামড়ানো, ব্যথা হতে পারে। হাড়ক্ষয়ের অন্যতম কারণ ভিটামিন ডির ঘাটতি। কারণ রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা ঠিক রাখতে ভিটামিন ডি লাগে। নারীদের মেনোপজের পর অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয় বৃদ্ধি পায়। এ সময় ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্টের দরকার হতে পারে। সাপ্লিমেন্ট কতটুকু লাগবে, তা নির্ধারণ করতে রক্তে ভিটামিন ডির মাত্রা দেখে নিতে পারেন।

ফ্যাটি লিভার: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে ফ্যাটি লিভার বা যকৃতে চর্বি জমার ঝুঁকি। আর যাদের ওজন বেশি, রক্তে চর্বির মাত্রা বেশি বা ডায়াবেটিস আছে, তাদের ঝুঁকি আরও বেশি। ফ্যাটি লিভার হলে রক্তের এসজিপিটি বাড়ে। পেটের আলট্রাসনোগ্রামে ধরা পড়ে লিভারে চর্বি। দরকার পড়লে ফাইব্রোস্ক্যান করতে হতে পারে। ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসা হলো খাদ্যাভ্যাস ও জীবনাচরণ পরিবর্তন, ওজন কমানো। নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম। ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসা না করলে এ থেকে লিভার সিরোসিস পর্যন্ত হতে পারে। তাই এ বয়সে এসে একটা আলট্রাসনোগ্রাম করা জরুরি।

স্তন ক্যানসারের পরীক্ষা: মায়েরা স্তন আর জরায়ু ডিম্বাশয়ের সমস্যা সবচেয়ে বেশি অবহেলা করেন। বছরে অন্তত একবার স্তনের আলট্রাসনোগ্রাফি করা উচিত। প্রয়োজন পড়লে একটা ম্যামোগ্রাম। দক্ষ চিকিৎসকের কাছে স্তন পরীক্ষা করলেও অনেক কিছু ধরা পড়ে। সাধারণত মায়েরা এ বিষয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন। কাউকে এ জাতীয় সমস্যা বা পরীক্ষার কথা বলতেও লজ্জা পান। সংকোচ ভেঙে সন্তানেরাই এগিয়ে আসতে পারেন।

জরায়ুর পরীক্ষা: তলপেটের আলট্রাসনোগ্রাম করলে জরায়ু বা ওভারির যে কোনো সমস্যা সহজেই ধরা পড়ে। মেনোপজের পর আবার মাসিকের মতো রক্তপাত সন্দেহজনক। তলপেটে ব্যথা, ভারী বোধ হওয়া, চাকা বোধ করা ইত্যাদি খারাপ উপসর্গ। আবার কোনো উপসর্গ না থাকলেও একটা বয়সের পর আলট্রাসনোগ্রাম, জরায়ুমুখের রস নিয়ে পরীক্ষা করা উচিত।

প্রস্রাবে সংক্রমণ: মায়ের বয়সী নারীদের খুবই পরিচিত একটি সমস্যা প্রস্রাবে সংক্রমণ। প্রস্রাবে সংক্রমণ হলে প্রস্রাবে জ্বালা, তলপেটে ব্যথা, অস্বস্তি, জ্বর জ্বর ভাব হতে পারে। প্রস্রাবের রুটিন পরীক্ষায় বিশেষ কোষের সংখ্যা বেশি পাওয়া গেলে প্রস্রাব কালচার করতে হয়। সে অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করলে রেহাই মেলে। প্রস্রাবের রুটিন পরীক্ষায় প্রস্রাবে আমিষ, সুগার ইত্যাদিসহ আরও নানা তথ্য পাওয়া যায়।

হাড়ের ঘনত্ব: বয়স্ক নারীদের একটি বড় সমস্যা হলো অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ের ক্ষয়। বোন মিনারেল ডেনসিটি বা ডেক্সা স্ক্যান দিয়ে হাড়ের ঘনত্ব পরিমাপ করা যায়। হাড়ের ঘনত্ব কম থাকলে চিকিৎসা আছে। চিকিৎসা নিলে হাড় ভেঙে যাওয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব। মায়ের বয়স বেশি হলে বাথরুমে চলাচলের ক্ষেত্রেও সাবধানতা জরুরি। প্রয়োজন হলে বাথরুমের দেয়ালে ধরার মতো বাড়তি ব্যবস্থা রাখতে হবে।

হার্টের সুস্থতা: বয়স বাড়লে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। মেনোপজের পর নারীদের হৃদরোগের ঝুঁকি পুরুষের সমান হয়ে যায়। বুকে চাপ, ব্যথা, পরিশ্রম করলে ব্যথা বাড়া, ব্যথা কাঁধ বা হাতে ছড়িয়ে পড়া হার্টের রোগের লক্ষণ। যে কোনো রকম পূর্বলক্ষণ ছাড়াই যে কারো হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। ইসিজি বা ইকোকার্ডিওগ্রাফি হার্টের রুটিন পরীক্ষা। কিন্তু অনেক সময় হৃদরোগ এতে ধরা নাও পড়তে পারে। ইটিটি করলে হার্টের সম্ভাব্য রোগ আঁচ করা যায়।

আপ্র/কেএমএএ/০৬.০৫.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরো ৬ জনের মৃত্যু
২০ মে ২০২৬

হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরো ৬ জনের মৃত্যু

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরো ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে নতুন করে ১ হাজার...

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১১ শিশুর মৃত্যু
১৯ মে ২০২৬

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১১ শিশুর মৃত্যু

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরো ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ ন...

দেশের সকল চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল
১৯ মে ২০২৬

দেশের সকল চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল

দেশজুড়ে শিশুদের মাঝে হামজনিত নিউমোনিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই