গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

স্তন ক্যানসার চিকিৎসায় আশার নতুন দুয়ার

স্বাস্থ্য ডেস্ক

স্বাস্থ্য ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:৪৯ পিএম, ১০ জুন ২০২৬ | আপডেট: ২০:৪১ এএম ২০২৬
স্তন ক্যানসার চিকিৎসায় আশার নতুন দুয়ার
ছবি

স্তন ক্যানসার চিকিৎসায় আশার নতুন দুয়ার

স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত বিপুলসংখ্যক রোগীর জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানে উন্মোচিত হতে যাচ্ছে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত। আন্তর্জাতিক এক গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে, ভবিষ্যতে অনেক রোগীকেই আর কেমোথেরাপির কঠিন পথ পাড়ি দিতে নাও হতে পারে। বিশেষ ধরনের একটি ডিএনএভিত্তিক জিন পরীক্ষা নির্ধারণ করে দিতে পারে, কোন রোগী কেমোথেরাপি থেকে প্রকৃত উপকার পাবেন আর কার ক্ষেত্রে এই চিকিৎসার প্রয়োজনই হবে না।

গবেষণার ফল বলছে, অংশগ্রহণকারী রোগীদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি মানুষকে কেমোথেরাপি ছাড়াই সফলভাবে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে হরমোন থেরাপিই যথেষ্ট কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। ফলে কেমোথেরাপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নানা শারীরিক ও মানসিক ভোগান্তি থেকেও তারা মুক্ত থাকতে পেরেছেন।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, কেমোথেরাপির কারণে অনেক রোগীকে ক্লান্তি, বমিভাব, চুল ঝরে যাওয়া, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়া এবং প্রজননসংক্রান্ত জটিলতার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়। সে কারণে অপ্রয়োজনীয় কেমোথেরাপি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন। এতে যুক্তরাজ্য, নরওয়ে, সুইডেন, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও থাইল্যান্ডের ৪০ বছরের বেশি বয়সী সদ্য শনাক্ত হওয়া ৪ হাজারেরও বেশি স্তন ক্যানসার রোগী অংশ নেন।

গবেষণায় ব্যবহার করা হয় ‘প্রোসিগনা’ নামের একটি জিন পরীক্ষা। এই পরীক্ষার মাধ্যমে স্তন ক্যানসারের বিকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত ৫০টি জিনের কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করা হয় এবং ভবিষ্যতে রোগটি পুনরায় ফিরে আসার ঝুঁকি কতটা, তা নির্ণয় করা সম্ভব হয়। যেসব রোগীর ঝুঁকির স্কোর কম ছিল, তাদের কেমোথেরাপি দেওয়া হয়নি। এই নিম্ন-ঝুঁকির রোগীরাই গবেষণায় অংশ নেওয়া মোট রোগীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ।

গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, কেমোথেরাপি ছাড়াই চিকিৎসা পাওয়া রোগীদের পাঁচ বছরের বেঁচে থাকার হার ছিল ৯৩ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে কেমোথেরাপি গ্রহণকারী রোগীদের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ৯৪ দশমিক ৯ শতাংশ। দুই দলের ফলাফলের মধ্যে পার্থক্য ছিল খুবই সামান্য।

বর্তমানে স্তন ক্যানসারের প্রধান চিকিৎসা হলো অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমার অপসারণ। এরপর রোগটি পুনরায় ফিরে আসার ঝুঁকি কমাতে অনেক ক্ষেত্রেই কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ের সেইসব রোগীর ক্ষেত্রে, যাদের ক্যানসার নিকটবর্তী লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়েছে।

তবে দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসকদের একটি অংশ মনে করে আসছিলেন, স্তন ক্যানসারের সবচেয়ে প্রচলিত ধরনে সব রোগীর জন্য কেমোথেরাপি সমানভাবে উপকারী নাও হতে পারে। নতুন গবেষণাটি সেই ধারণাকে আরো শক্তিশালী করেছে।

গবেষকদের মতে, এই পদ্ধতি চালু হলে যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থার আওতায় প্রতিবছর ৫ হাজারের বেশি রোগী অপ্রয়োজনীয় কেমোথেরাপি থেকে রেহাই পেতে পারেন।

এই গবেষণার সুফল পাওয়া রোগীদের একজন কার্ডিফের বাসিন্দা ৬৪ বছর বয়সী ক্যারেন বনহ্যাম। প্রোসিগনা পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে তিনি কেমোথেরাপি ছাড়াই চিকিৎসা গ্রহণ করেন। তার চিকিৎসার অংশ হিসেবে দেওয়া হয় রেডিওথেরাপি ও হরমোন থেরাপি, যা তিনি আট বছর ধরে গ্রহণ করেছেন।

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ক্যারেন বলেন, ক্যানসার শনাক্ত হওয়া এবং চিকিৎসার পুরো প্রক্রিয়াই মানুষের জীবনে বড় ধরনের মানসিক ধাক্কা সৃষ্টি করে। এমন পরিস্থিতিতে এই পরীক্ষার ফলাফল তার জন্য স্বস্তি ও আশার বার্তা হয়ে এসেছিল।

গবেষণাটির ফলাফল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্যানসারবিষয়ক সম্মেলন আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজির বার্ষিক সভায় উপস্থাপন করা হবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

গবেষণার প্রধান এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন ক্যানসার ইনস্টিটিউটের ব্রেস্ট অনকোলজি বিভাগের অধ্যাপক রব স্টেইনের মতে, এই গবেষণা রোগীদের জন্য আরো ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও নির্ভুল চিকিৎসা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু প্রচলিত ক্লিনিক্যাল তথ্যের ওপর নির্ভর না করে টিউমারের জৈবিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে চিকিৎসা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা চিকিৎসার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।

তিনি আরো বলেন, এর ফলে অনেক রোগী কেমোথেরাপির শারীরিক ও মানসিক চাপের পাশাপাশি সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকেও মুক্ত থাকতে পারবেন। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যব্যবস্থার সম্পদের আরো কার্যকর ও তথ্যনির্ভর ব্যবহার নিশ্চিত হবে।

তবে গবেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই ফলাফল ৪০ বছরের কম বয়সী রোগীদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরো কয়েক বছর গবেষণা চালিয়ে যেতে হবে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই নতুন অগ্রগতি তাই শুধু একটি গবেষণার ফল নয়; এটি ভবিষ্যতের আরো নির্ভুল, ব্যক্তিকেন্দ্রিক এবং মানবিক ক্যানসার চিকিৎসার সম্ভাবনাকেও সামনে নিয়ে এসেছে। তথ্যসূত্র: বিবিসি
সানা/আপ্র/১০/৬/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

একদিনে হামের উপসর্গে আরো ৭ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩১৫
২৯ অক্টোবর ২০২৬

একদিনে হামের উপসর্গে আরো ৭ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩১৫

দেশে ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে আরো ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৫ জন এবং হামের উ...

অতিরিক্ত লবণে যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে লিভার
২৯ অক্টোবর ২০২৬

অতিরিক্ত লবণে যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে লিভার

স্বাস্থ্য প্রতিদিন----------------------

ওসমানী হাসপাতালে সাংবাদিকদের মাথা ফাটালেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ওসমানী হাসপাতালে সাংবাদিকদের মাথা ফাটালেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের...

ডেঙ্গুতে একদিনে কেড়ে নিলো ৯ প্রাণ
২৮ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গুতে একদিনে কেড়ে নিলো ৯ প্রাণ

চলতি মাসে চরম ভয়াবহতা ছড়িয়ে চলেছে ডেঙ্গু। প্রতিদিনই এডিস মশাবাহিত এ ভাইরাসটিতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ম...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে