গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

জাতিসংঘের মঞ্চে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি ট্রাম্পের

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:৫৪ পিএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ০৩:০৫ এএম ২০২৬
জাতিসংঘের মঞ্চে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি ট্রাম্পের
ছবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

শান্তিচুক্তি না হলে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, যুদ্ধের অবসানে কোনো চুক্তি না হলে ইরানের বিরুদ্ধে আরো কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

ট্রাম্প বলেন, ইরানের সামনে এখন মূলত দুটি পথ খোলা - যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছানো, যার মাধ্যমে দেশটি পুনর্গঠন করে আগের চেয়ে শক্তিশালী ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, অথবা নতুন করে মার্কিন সামরিক অভিযানের মুখোমুখি হওয়া।

ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘এবার আমাকে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ইরানের সঙ্গে কি এমন কোনো চুক্তি হবে, যার মাধ্যমে দেশটি পুনর্গঠন হবে এবং অতীতের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও উন্নত দেশ হয়ে উঠতে পারবে? না কি আমি ইসলামি প্রজাতন্ত্রটিকে নিশ্চিহ্ন করে দেব এবং তা করব দ্রুত, যাতে তারা আর কখনোই হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসলীলা চালানোর সুযোগ না পায়?’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি কি তাদের অস্তিত্বের সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বা মহত্ত্বের কোনো আশা ছাড়া নরকে ঠেলে দেব?’

এর পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে চুক্তির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি ট্রাম্প। তিনি বলেন, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হতে পারে। তাঁর ভাষ্য, ‘আমার বিশ্বাস, নির্বাচনের ঠিক পরেই আমরা একটি চুক্তি করব। কারণ, চুক্তি না করার কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ তাদের নেই। মধ্যবর্তী নির্বাচনে আমি কেমন ফল করি, তারা সেটাই দেখার অপেক্ষা করছে।’

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের ভাষণে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন এবং দাবি করেন, এ যুদ্ধের মাধ্যমে তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার জন্য অন্য দেশগুলোকেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে। ৩ নভেম্বরের নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর প্রশাসন তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রেখেছে।

জাতিসংঘের ভাষণে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ প্রমাণ করেছে, পশ্চিম গোলার্ধের কোথাও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো হুমকিকে আর শিকড় গাড়তে দেওয়া হবে না।

এদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে ইরান সরকারবিরোধী শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেন। তাঁদের হাতে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পক্ষে এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দাবিসংবলিত পোস্টার দেখা যায়।

জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ ও সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধান, বিশ্বনেতাদের আলোচনায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ইরানও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে; তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ কমানোর বিষয়টি আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে সামনে এসেছে। 
সানা/আপ্র/২৩/৯/২০২৬

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

ঢাকার সঙ্গে ইতিবাচক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক চায় দিল্লি
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকার সঙ্গে ইতিবাচক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক চায় দিল্লি

বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় ভারত। একই সঙ্গে বিদ্যমান কাঠা...

হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে হাইতির প্রধ...

ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী...

বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

বাস ভাড়া বাড়লো কিলোমিটারে ১৭ পয়সা, প্রজ্ঞাপনের আগেই বাড়তি আদায়

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির আগেই রাজধানীসহ বিভিন্ন রুটে বাসভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন পরিবহনকর্মীদের কেউ কেউ। কোথাও ১০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১৫ টাকা, কোথাও প্রতি স্টপেজে পাঁচ টাকা করে বেশি নেওয়া হচ্ছে। দূরপাল্লার বাসেও গন্তব্যভেদে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অথচ সরকার ও সড়ক পরিবহন মালিকপক্ষ প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন বাস ভাড়ার এই নৈরাজ্য সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে?

মোট ভোট: ০ | শেষ আপডেট: 2 ঘন্টা আগে