ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট সেনাবাহিনী বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রানচেসকা আলবানিজ। তিনি বলেন, ইসরায়েলি বাহিনীর কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে সব সীমারেখা অতিক্রম করেছে এবং তা মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘনের শামিল।
একটি ভিডিওতে ইসরায়েলি সেনাদের ফিলিস্তিনি এক শিশুর ওপর নির্যাতনের দৃশ্য দেখার পর তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান বলে জানা গেছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আলবানিজ লেখেন, তিনি যা দেখেছেন তা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে এবং এর পর তিনি নিশ্চিতভাবে এ মন্তব্য করেন।
আলবানিজের মতে, গাজা উপত্যকায় চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি আগে থেকেই গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে জাতিগত নিধনের অভিযোগে আখ্যা দিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন, যা প্রকাশের পর থেকেই তিনি ব্যাপক সমালোচনা ও চাপের মুখে পড়েন।
জাতিসংঘের এই বিশেষ দূত অভিযোগ করেন, তাঁর প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে নানা ধরনের উসকানিমূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে এবং তিনি সরাসরি প্রাণনাশের হুমকিও পেয়েছেন। তিনি জানান, এ পরিস্থিতিতে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এবং তিনি সব সময়ই হুমকির মধ্যেই জীবনযাপন করছেন।
একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আলবানিজ বলেন, প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে তাঁর জীবনে অনিশ্চয়তা বেড়ে গেছে। তিনি পরিস্থিতিকে মানসিকভাবে অত্যন্ত চাপপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, প্রতিনিয়ত চাপ ও হুমকির কারণে তাঁর জীবন যেন এক অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে গাজা উপত্যকায় চলমান সংঘাতকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। সেখানে বেসামরিক নাগরিক, বিশেষ করে শিশুদের ওপর সহিংসতার অভিযোগ বারবার উঠে আসছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানিয়ে আসছে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ অবশ্য অতীতে জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে এবং তাদের সামরিক কার্যক্রমকে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
তবে ফ্রানচেসকা আলবানিজের সাম্প্রতিক মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। মানবাধিকার, যুদ্ধনীতি এবং আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্নগুলো আবারো সামনে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের কঠোর মন্তব্য আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা আরো বাড়াতে পারে, তবে একই সঙ্গে এটি গাজা পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ব জনমতকে নতুনভাবে আলোচনায় আনতেও ভূমিকা রাখবে।
সানা/ডিসি/আপ্র/২১/৪/২০২৬