ছয় বছর বন্ধ থাকার পর ভারতের সিকিম ও চীনের তিব্বতের মধ্যে সংযোগকারী নাথু লা সীমান্তপথ দিয়ে আবারো বাণিজ্য শুরু হয়েছে। গত শনিবার (১ আগস্ট) থেকে চালু হওয়া এই সীমান্ত বাণিজ্যের মাধ্যমে করোনা মহামারির সময় বন্ধ হয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক সিল্ক রুটের একটি অংশ ফের সচল হলো।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম উইয়ন নিউজ জানিয়েছে, ২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে নাথু লা দিয়ে দুই দেশের সীমান্ত বাণিজ্য স্থগিত করা হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর এই পথ পুনরায় চালুর মাধ্যমে ভারত ও চীন কয়েক বছরের টানাপোড়েনের পর অর্থনৈতিক যোগাযোগ ও সীমান্তবর্তী মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে।
সিকিমের সঙ্গে তিব্বতের সংযোগকারী নাথু লা দিয়ে সীমান্ত বাণিজ্য প্রথম চালু হয়েছিল ২০০৬ সালে। এর আগে ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের পর দীর্ঘ ৪৪ বছর এই পথ বন্ধ ছিল। পুরোনো সিল্ক রুটের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা এবং দুই দেশের মধ্যে আস্থা তৈরির উদ্যোগ হিসেবে তখন এই বাণিজ্যপথ চালু করা হয়েছিল।
দুই দেশের সম্মত কার্যপদ্ধতি অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে মে থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বাণিজ্য কার্যক্রম চলবে। সপ্তাহে সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পণ্য আদান-প্রদান হবে। আগের মতোই উভয় দেশের অনুমোদিত ৩৬টি পণ্যের তালিকা বহাল রাখা হয়েছে।
ভারতের রপ্তানি পণ্যের তালিকায় রয়েছে হস্তশিল্প, হস্ততাঁতের পণ্য, মসলা, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, কৃষি সরঞ্জাম, পোশাক, বাসনপত্র ও ধর্মীয় সামগ্রী। অন্যদিকে তিব্বত থেকে আমদানি করা হবে উলের পোশাক, জুতা, ইয়াকজাত পণ্য, মাখন, বোরাক্স, ছাগল ও কম্বলসহ বিভিন্ন পণ্য।
বাণিজ্য পুনরায় চালুর আগে নাথু লা সমন্বিত চেকপোস্টে সংস্কার ও উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত করা হয়। পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ।
এবার প্রথমবারের মতো বাণিজ্য কার্যক্রমে সহায়তার জন্য নাথু লায় নারী সদস্যদের একটি প্লাটুনও মোতায়েন করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একটি বাণিজ্য মৌসুমে সর্বোচ্চ ৪০০ জন ব্যবসায়ী এই পথ ব্যবহার করতে পারবেন। তবে বর্তমানে সীমিতসংখ্যক ব্যবসায়ীকে অনুমতিপত্র দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার যাচাই শেষে আরো ব্যবসায়ী অনুমোদন পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন এখনো বিদ্যমান। তবে কর্মকর্তাদের মতে, নাথু লা দিয়ে বাণিজ্য পুনরায় চালু হওয়া দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্কের বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত না হলেও সীমান্তে স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সূত্র: উইয়ন নিউজ
সানা/আপ্র/৩/৮/২০২৬