গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

আজ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করা দিবস

লাইফস্টাইল ডেস্ক

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:৫১ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৮:২০ এএম ২০২৬
আজ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করা দিবস
ছবি

ছবি সংগৃহীত

সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তায় নেই ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ, নেই তীব্র যানজট। কেউ হেঁটে, কেউ বাসে, আবার কেউ সাইকেলে ছুটছেন গন্তব্যের দিকে—রাজধানীবাসীর কাছে এমন দৃশ্য অনেকটা স্বপ্নের মতো। ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এমন পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যেই আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) পালিত হচ্ছে বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে। দেশে ২০১৬ সাল থেকে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য শুধু এক দিনের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার বন্ধ রাখা নয়; বরং ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার ও নির্ভরতা কমানো, যানজট, বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ কমানো এবং হাঁটা, সাইকেল ও গণপরিবহন ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করা।

ঢাকার সড়কে গাড়ির চাপ

রাজধানী ঢাকার সড়কে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখের বেশি যানবাহন চলাচল করে। এর মধ্যে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা মাত্র ৫ থেকে ৭ শতাংশ হলেও এসব গাড়ি সড়কের প্রায় ৭০ শতাংশ জায়গা দখল করে। অন্যদিকে, ঢাকার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ গণপরিবহনের ওপর নির্ভরশীল।

ফলে অল্পসংখ্যক ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য সড়কের বড় অংশ ব্যবহৃত হলেও বিপুলসংখ্যক মানুষকে গণপরিবহনের ওপর নির্ভর করে চলাচল করতে হয়। এর প্রভাব পড়ে যানজটসহ নগরজীবনের নানা ক্ষেত্রে।

যানজটে বছরে অপচয় বিলিয়ন ডলার

বুয়েটের গবেষণা অনুযায়ী, ঢাকার যানজটের কারণে প্রতিবছর প্রায় ৩ থেকে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ অপচয় হয়। অতিরিক্ত যান্ত্রিক যানবাহনের কারণে বায়ুদূষণও বাড়ছে। এর ফলে ঢাকায় প্রতিবছর প্রায় ৮০ হাজার মানুষের অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি হাঁটা, সাইকেল ও গণপরিবহনের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কম গাড়ি, বাসযোগ্য নগরী’

বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ধানমন্ডি সাত মসজিদ সড়কের আবাহনী খেলার মাঠের সামনে ‘কম গাড়ি, বাসযোগ্য নগরী’ শীর্ষক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণের অভাবে ঢাকা মহানগরী প্রতিনিয়ত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে মানুষের যাতায়াতের চাহিদা ও যান্ত্রিক যানবাহনের সংখ্যাও বাড়ছে। ফলে ঢাকা ক্রমেই যানজটের শহরে পরিণত হচ্ছে।

তারা জানান, ঢাকার প্রায় ৭৬ শতাংশ যাতায়াত দুই কিলোমিটারের মধ্যে হয়। এসব স্বল্প দূরত্বে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হাঁটার পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে অনেক মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে হেঁটে যাতায়াতে উৎসাহিত হবেন।

জ্বালানির দাম বাড়ায় বাড়ছে যাতায়াত ব্যয়

কর্মসূচিতে বক্তারা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টিও তুলে ধরেন। তাদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়লে মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যয়ের পাশাপাশি পারিবারিক ব্যয়ের ওপরও সরাসরি চাপ পড়ে।

এ কারণে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি গণপরিবহন, হাঁটা ও সাইকেল ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করার প্রয়োজন রয়েছে। অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমানো গেলে জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি পারিবারিক পরিবহন ব্যয়ও কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে যানজট ও বায়ুদূষণ কমিয়ে নগরবাসীর জন্য আরও বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি করা যেতে পারে।

যেসব বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে

বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে কর্মসূচিতে কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাস, রেল ও নৌযানের মধ্যে সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা; নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সহজ ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা; স্কুল, বাসাবাড়ি ও বাজারসহ ব্যস্ত এলাকায় যানবাহনের গতি সীমা কার্যকর করা এবং হাঁটা, সাইকেল ও গণপরিবহনের স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো।

এ ছাড়া ট্রাফিক আইন ও নিয়মকানুন সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি এবং পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শুধু এক দিনের নয়, নিয়মিত অভ্যাসের লক্ষ্য

বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবসের মূল বার্তা হলো—শুধু একটি দিন ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন অনুযায়ী হাঁটা, সাইকেল ও গণপরিবহন ব্যবহারের সুযোগ তৈরি এবং ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোই দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য।

বিশেষ করে স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতে নিরাপদ হাঁটার পরিবেশ তৈরি করা গেলে যানজট, জ্বালানি খরচ ও দূষণ কমানোর পাশাপাশি নগরজীবনও আরও স্বস্তিদায়ক হতে পারে।

এসি/আপ্র/২২/৯/২০২৬

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

ইসবগুল খাওয়ার উপকারিতা ও সতর্কতা জেনে নিন
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসবগুল খাওয়ার উপকারিতা ও সতর্কতা জেনে নিন

কোষ্ঠকাঠিন্য হলেই অনেকের মনে পড়ে ইসবগুলের ভুসির কথা। পানিতে মিশিয়ে খাওয়া পরিচিত এই খাবারটি দীর্ঘদিন...

একসময় রিকশাই ছিল প্রেমের বাহক
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একসময় রিকশাই ছিল প্রেমের বাহক

একটি রিকশা, দুজন মানুষ আর শহরের ব্যস্ত রাস্তা—প্রেমের গল্পের জন্য এর চেয়ে বেশি কিছু যেন লাগত না। তখন...

মানুষ সভ্যতার শুরু থেকেই সন্ধান করলেও প্রতিষ্ঠা পায়নি শান্তি
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মানুষ সভ্যতার শুরু থেকেই সন্ধান করলেও প্রতিষ্ঠা পায়নি শান্তি

পৃথিবীর ইতিহাসে এমন একটি দিন খুব কমই আছে- যার সঙ্গে মানুষের অস্তিত্বের এত নিবিড় সম্পর্ক। শান্তি ছাড়া...

সারাদিন কর্মব্যস্ততার স্বামীর প্রশংসায় সব ক্লান্তি ভুলে যান স্ত্রী
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সারাদিন কর্মব্যস্ততার স্বামীর প্রশংসায় সব ক্লান্তি ভুলে যান স্ত্রী

সংসার মানেই শুধু ঘর, দায়িত্ব আর ব্যস্ততা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ভালোবাসা, অভিমান, যত্ন, ত্যাগ আর এক...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

বাস ভাড়া বাড়লো কিলোমিটারে ১৭ পয়সা, প্রজ্ঞাপনের আগেই বাড়তি আদায়

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির আগেই রাজধানীসহ বিভিন্ন রুটে বাসভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন পরিবহনকর্মীদের কেউ কেউ। কোথাও ১০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১৫ টাকা, কোথাও প্রতি স্টপেজে পাঁচ টাকা করে বেশি নেওয়া হচ্ছে। দূরপাল্লার বাসেও গন্তব্যভেদে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অথচ সরকার ও সড়ক পরিবহন মালিকপক্ষ প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন বাস ভাড়ার এই নৈরাজ্য সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে?

মোট ভোট: ০ | শেষ আপডেট: 17 ঘন্টা আগে