সংসার ও কর্মক্ষেত্রের নানা টানাপোড়েনে দিন দিন বাড়ছে মানসিক অস্থিরতা ও অযথা উদ্বেগ। এর প্রভাব পড়ছে স্মৃতিশক্তি থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় কোনো উৎসবকে সামনে রেখে নিজেকে সতেজ ও প্রফুল্ল রাখা জরুরি। প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিটের কিছু সহজ চর্চা মানসিক স্বস্তি দিতে পারে।
মন ভালো রাখতে ও উদ্বেগ কমাতে পাঁচটি উপায় তুলে ধরা হলো—
১. সিদ্ধাসন
প্রথমে মেঝেতে ম্যাটের ওপর পিঠ সোজা রেখে বসুন। ধীরে ধীরে শ্বাস-প্রশ্বাস নিন। বাঁ পা ভাঁজ করে ডান পায়ের ওপর এবং একইভাবে ডান পা ভাঁজ করে বাঁ পায়ের ওপর রাখুন। এরপর দুই হাত হাঁটুর ওপর রেখে জ্ঞান মুদ্রা করুন। এ অবস্থায় কিছুক্ষণ শান্ত হয়ে বসুন। এতে মন স্থির করতে সহায়তা করতে পারে।
২. বক্স ব্রিদিং
মানসিক চাপ কমাতে এই শ্বাসের ব্যায়াম করা হয়। প্রথমে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন এবং স্থির থাকুন। এরপর ১০ সেকেন্ড ধরে গভীরভাবে শ্বাস নিন। শ্বাস ধরে রেখে মনে মনে পাঁচ পর্যন্ত গুনুন। এরপর আবার ১০ সেকেন্ড ধরে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন।
৩. ভস্ত্রিকা প্রাণায়াম
মেরুদণ্ড সোজা রেখে বসে গভীরভাবে শ্বাস নিন। কিছুক্ষণ ধরে রেখে আবার ছেড়ে দিন। যতটুকু সময় নিয়ে শ্বাস নেবেন, ঠিক ততটুকু সময় নিয়ে শ্বাস ছাড়ার চেষ্টা করুন। তিন থেকে ছয় মিনিট এই ব্যায়াম করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এতে মানসিক অবসাদ কমতে পারে এবং হাঁপানি বা সাইনাসের সমস্যায়ও উপকার পাওয়া যেতে পারে।
৪. প্রাণ মুদ্রা
সোজা হয়ে বসে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিন। দুই হাতের কনিষ্ঠা ও অনামিকা আঙুল বৃদ্ধাঙ্গুলের সঙ্গে যুক্ত করুন এবং বাকি আঙুলগুলো সোজা রাখুন। এরপর হাত দুটি হাঁটুর ওপর রেখে চোখ বন্ধ করে ১০ মিনিট বসুন। প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, এতে স্নায়ু শান্ত হতে এবং ক্লান্তি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
৫. চেস্ট ওপেনার স্ট্রেচ
চেয়ারে সোজা হয়ে বসে কাঁধ সমান্তরাল রাখুন। দুই হাত পিঠের পেছনে নিয়ে এক হাত দিয়ে অন্য হাত ধরুন। এবার পিঠ টানটান রেখে হাত দুটি যতটা সম্ভব পেছনের দিকে প্রসারিত করুন। বুক প্রসারিত অবস্থায় ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড থেকে গভীরভাবে শ্বাস নিন ও ছাড়ুন। এতে শরীরের পেশির জড়তা কমাতে এবং সতেজ অনুভব করতে সহায়তা করতে পারে।
এসি/আপ্র/০৪/১০/২০২৬