গরমের দিনে শরীর যেন আগুন হয়ে ওঠে। বাইরে থেকে ফিরে গোসল করলেও কিছুক্ষণ পর আবার ঘামতে শুরু করেন অনেকে। তবে সঠিক পদ্ধতিতে গোসল করলে শরীর দীর্ঘ সময় ঠাণ্ডা ও সতেজ থাকতে পারে।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন বলেন, গরমে স্বাভাবিক বা হালকা ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করাই সবচেয়ে ভালো। সরাসরি মাথায় ঠাণ্ডা পানি ঢালবেন না, ধাপে ধাপে গোসল করুন। পানিতে পুদিনা, গোলাপ জল বা চন্দন মিশিয়ে নিলে শরীর আরো দীর্ঘক্ষণ ঠাণ্ডা থাকে।
গরমে গোসলের সঠিক পদ্ধতি: গোসলের সময় কয়েকটি ছোটখাট বিষয় মেনে চললে শরীরের তাপমাত্রা অনেকক্ষণ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
ধাপে ধাপে গোসল: প্রথমে পা ভিজিয়ে নিন, তারপর হাত, শরীর এবং সবশেষে মাথায় পানি ঢালুন। এতে শরীর ধীরে ধীরে ঠাণ্ডা হয় এবং আকস্মিক শক লাগে না।
সময় ও প্রস্তুতি: বাইরে থেকে এসে সঙ্গে সঙ্গে গোসল করা ঠিক না। অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট ফ্যানের নিচে বসে ঘাম শুকিয়ে নিতে হবে। এতে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসে।
সকাল বা বিকেলে গোসল করা সবচেয়ে ভালো। দুপুরে পানি খুব গরম হয়ে গেলে সকালের পানি আলাদা করে রেখে দেওয়া যায়।
পানির তাপমাত্রা: অতিরিক্ত ঠাণ্ডা বা বরফ পানি একেবারেই এড়িয়ে চলতে হবে। হালকা ঠাণ্ডা বা ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করা উচিৎ। খুব ঠাণ্ডা পানি শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে এবং ঠাণ্ডা লাগার ঝুঁকি তৈরি করে।
প্রাকৃতিক উপাদান মেশান: গোসলের পানিতে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস, গোলাপ জল, পুদিনা পাতা বা ল্যাভেন্ডার অয়েল মেশালে উপকার পাওয়া যায়।
পুদিনা শরীরে শীতলতা আনে, গোলাপের সুগন্ধ মনকে প্রশান্ত করে এবং চন্দন ত্বককে নরম রাখে। এতে শরীর দীর্ঘক্ষণ ঠাণ্ডা ও সুগন্ধিযুক্ত থাকে।
সাবান ও ময়েশ্চারাইজার: ‘মাইল্ড বেবি সোপ’ বা হালকা সাবান ব্যবহার করতে হবে। গোসলের পর ত্বক শুকিয়ে ভালো ময়েশ্চারাইজার লাগান। এতে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পায়।
ঘরেই তৈরি করা যায় স্পা বাথ
গোসলের পানিতে বাথ সল্ট, গোলাপ জল এবং পুদিনা মিশিয়ে স্পা বাথ তৈরি করা যায়। এতে শরীরের ক্লান্তি দূর হয় এবং ত্বক সতেজ থাকে।
গোসলের পর হালকা সুতির ঢিলেঢালা পোশাক পরতে হবে। এতে বাতাস চলাচল সহজ হয় এবং দেহ ঠাণ্ডা থাকে।
সতর্কতা: ডা. নয়ন কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দেন- খুব ঠাণ্ডা পানি হুট করে মাথায় ঢালা যাবে না, মাথা ঘোরা বা অস্বস্তি হতে পারে গোসলের পর সরাসরি রোদে বের হওয়া যাবে না।
যাদের ঠাণ্ডা লাগার প্রবণতা আছে, তাদের হালকা উষ্ণ পানি ব্যবহার করা উপকারী।
সানা/আপ্র/২২/৪/২০২৬