গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নবজাতকের যত্নেও বাড়তি মনোযোগ প্রয়োজন। কারণ প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় নবজাতকের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কম থাকে। ফলে অতিরিক্ত গরমে তারা সহজেই অস্বস্তি, পানিশূন্যতা, ঘামাচি বা ত্বকের নানা সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে। কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে গরমেও শিশুকে সুস্থ ও স্বস্তিতে রাখা সম্ভব।
ঘন ঘন বুকের দুধ খাওয়ান
গরমের কারণে ঘামের মাধ্যমে শিশুর শরীর থেকে পানি বের হয়ে যায়। তাই ছয় মাসের কম বয়সী নবজাতককে প্রয়োজন অনুযায়ী বারবার মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। এ বয়সে বুকের দুধই শিশুর পানির চাহিদা পূরণ করে; আলাদা করে পানি দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরান
শিশুকে পাতলা, নরম ও সুতি কাপড়ের পোশাক পরানো উচিত। অতিরিক্ত কাপড় বা মোটা পোশাক শরীরে তাপ আটকে রেখে অস্বস্তি বাড়াতে পারে। বাসার ভেতরে সাধারণত এক স্তরের হালকা পোশাকই যথেষ্ট।
ঘর রাখুন শীতল ও বাতাস চলাচল উপযোগী
নবজাতকের ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে। প্রয়োজনে ফ্যান বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে সরাসরি শিশুর শরীরে ঠান্ডা বাতাস লাগানো উচিত নয়। ঘরের তাপমাত্রা আরামদায়ক রাখা জরুরি।
তীব্র রোদ এড়িয়ে চলুন
সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে সূর্যের তাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। এ সময় নবজাতককে বাইরে না নেওয়াই ভালো। প্রয়োজন হলে ছায়াযুক্ত স্থানে রাখতে হবে এবং সরাসরি রোদ থেকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।
ত্বকের যত্ন নিন
গরমে শিশুর ঘামাচি, র্যাশ বা ত্বকে জ্বালাপোড়া হতে পারে। তাই ত্বক পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন। ঘাম হলে নরম কাপড় দিয়ে মুছে দিন। ডায়াপার নিয়মিত পরিবর্তন করুন, যাতে ডায়াপার র্যাশের ঝুঁকি কমে।
গোসল করানোর ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন
প্রতিদিন কুসুম গরম বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে গোসল করানো যেতে পারে। এতে শরীর সতেজ থাকে এবং গরমজনিত অস্বস্তি কমে। তবে শিশুকে দীর্ঘ সময় পানিতে রাখা ঠিক নয়।
পানিশূন্যতার লক্ষণ চিনে রাখুন
নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত—
* স্বাভাবিকের তুলনায় কম প্রস্রাব হওয়া
* মুখ ও ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়া
* অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব বা অবসন্নতা
* কান্নার সময় চোখে কম পানি আসা
* মাথার উপরের নরম অংশ (ফন্টানেল) বসে যাওয়া
নিরাপদ ঘুম নিশ্চিত করুন
গরমে শিশুর ঘুমের পরিবেশ আরামদায়ক রাখতে হবে। পাতলা বিছানা ব্যবহার করুন এবং অতিরিক্ত কম্বল বা ভারী কাপড় এড়িয়ে চলুন। শিশুকে চিৎ হয়ে শোয়ানো সবচেয়ে নিরাপদ।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসা নিন—
* অস্বাভাবিক জ্বর বা শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া
* বারবার বমি
* দুধ খেতে না চাওয়া
* শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস
* অতিরিক্ত নিস্তেজ বা অচেতনভাব
উপসংহার
গরমের মৌসুমে নবজাতকের যত্নে সামান্য অসাবধানতাও নানা শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে। পর্যাপ্ত বুকের দুধ, আরামদায়ক পরিবেশ, হালকা পোশাক, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা এবং শিশুর আচরণে পরিবর্তনের প্রতি সতর্ক নজর—এসবই তাকে সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
এসি/আপ্র/০৬/০৬/২০২৬