বর্তমান সময়ে অনেক নারীকে একই সঙ্গে কর্মজীবন ও পারিবারিক দায়িত্ব সামলাতে হয়। অফিসের কাজ, সন্তানের দেখাশোনা, পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজন এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা বিষয় নিয়ে দিনের বেশির ভাগ সময়ই ব্যস্ততায় কাটে। ফলে ক্লান্তি, মানসিক চাপ ও বিরক্তি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। অনেক সময় নিজের জন্য আলাদা সময় বের করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা নারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে কর্মজীবনের পাশাপাশি যেসব নারী মাতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেন বা পরিবারের অসুস্থ সদস্যের দেখভাল করেন, তাদের ওপর চাপ আরও বেশি পড়ে। তবে সঠিক পরিকল্পনা ও কিছু কার্যকর অভ্যাস অনুসরণ করলে এ ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব।
নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলুন
কাজ ও পরিবারের মধ্যে সমন্বয় আনতে একটি সুসংগঠিত রুটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দিনের কাজগুলো আগে থেকেই পরিকল্পনা করে নিলে সময় ব্যবস্থাপনা সহজ হয় এবং অপ্রয়োজনীয় চাপ কমে। গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো অগ্রাধিকার অনুযায়ী সাজালে নিজের জন্যও কিছুটা সময় বের করা সম্ভব হয়।
দিনের শুরু হোক শরীরচর্চায়
সকালে কিছু সময় হাঁটা, হালকা ব্যায়াম বা স্ট্রেচিং করলে শরীর ও মন দুটোই চাঙা থাকে। নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম মানসিক চাপ কমায়, কর্মক্ষমতা বাড়ায় এবং সারাদিন ইতিবাচক মনোভাব ধরে রাখতে সাহায্য করে।
কাজের মাঝে ছোট বিরতি নিন
দীর্ঘ সময় একটানা কাজ করলে শরীর ও মন দুটোই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে যারা বাসা থেকে কাজ করেন, তাদের জন্য নির্দিষ্ট সময় পরপর বিরতি নেওয়া জরুরি। কয়েক মিনিট হাঁটা, বারান্দায় দাঁড়িয়ে খোলা বাতাস নেওয়া বা প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে থাকা মনকে সতেজ করতে সহায়ক।
সময়মতো খাবার খান
ব্যস্ততার কারণে খাবার বাদ দেওয়া বা দেরিতে খাওয়ার অভ্যাস স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে সুষম খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান এবং অতিরিক্ত চা-কফি এড়িয়ে চলা শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস মানসিক চাপও কমায়।
নিজের জন্য সময় রাখুন
পরিবার ও কর্মক্ষেত্রের দায়িত্বের মাঝেও নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখা প্রয়োজন। বই পড়া, গান শোনা, শখের কাজ করা কিংবা নিরিবিলি কিছু সময় কাটানো মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়। নিজের সুস্থতা নিশ্চিত করা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং এটি একটি প্রয়োজন।
মাঝেমধ্যে ছুটির পরিকল্পনা করুন
একঘেয়ে জীবনযাত্রা থেকে বেরিয়ে আসতে ছোট ছোট বিরতি কার্যকর ভূমিকা রাখে। পরিবারকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাওয়া, কাছাকাছি কোনো পার্কে সময় কাটানো কিংবা প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকা মনকে সতেজ করে এবং নতুন উদ্যমে কাজে ফিরতে সহায়তা করে।
ভারসাম্যপূর্ণ জীবনই সাফল্যের চাবিকাঠি
কর্মজীবন ও পারিবারিক দায়িত্ব একসঙ্গে সামলানো সহজ নয়। তবে সব কাজ নিখুঁতভাবে করার চেয়ে নিজের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাকে গুরুত্ব দেওয়া বেশি প্রয়োজন। সঠিক পরিকল্পনা, স্বাস্থ্যকর অভ্যাস এবং আত্মযত্নের মাধ্যমে একজন নারী কর্মক্ষেত্র ও পরিবার—উভয় ক্ষেত্রেই সফল ও সুখী থাকতে পারেন।
সূত্র: মিডিয়াম, ওমেন রাইজিং, বেটারপ্লে ও অন্যান্য
এসি/আপ্র/১৪/০৬/২০২৬