গরমের দিনে দীর্ঘ সময় এসি চালানোর কারণে অনেকেরই বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যায়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নতুন ইনভার্টার এসি কিনলেই বিল কমবে না; সঠিক তাপমাত্রা নির্বাচন, উপযুক্ত মোড ব্যবহার এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে বিদ্যুৎ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা জানান, এসি ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে চালানো তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। অনেকের ধারণা, ১৬ বা ১৮ ডিগ্রিতে সেট করলে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হয়। বাস্তবে এসির কুলিং ক্ষমতা নির্দিষ্ট থাকায় এতে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হয় না, বরং কম্প্রেসর দীর্ঘ সময় চালু থাকায় বিদ্যুৎ খরচ বাড়তে পারে।
অটো ফ্যান মোড ব্যবহার করলে এসি ঘরের তাপমাত্রা অনুযায়ী নিজেই ফ্যানের গতি নিয়ন্ত্রণ করে, ফলে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ অপচয় কমে। রাতে স্লিপ মোড ব্যবহার করলে কয়েক ঘণ্টা পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়িয়ে আরাম বজায় রাখার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। একইভাবে ইকো মোড কম্প্রেসরের কার্যক্রম প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করে।
বর্ষাকালে অতিরিক্ত আর্দ্রতা কমাতে কুল মোডের পরিবর্তে ড্রাই মোড ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে ঘর আরামদায়ক থাকে এবং অনেক ক্ষেত্রে কম্প্রেসরও কম সময় চালাতে হয়।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য টাইমার ব্যবহারও কার্যকর। নির্দিষ্ট সময় পর এসি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে গেলে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ এড়ানো যায়।
এ ছাড়া গরমের মৌসুমে প্রতি দুই থেকে চার সপ্তাহ অন্তর এসির ফিল্টার পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। ধুলাবালি জমলে বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়, ফলে কাঙ্ক্ষিত তাপমাত্রা বজায় রাখতে এসিকে বেশি কাজ করতে হয়।
এসি চালানোর সময় দরজা-জানালা বন্ধ রাখা এবং সরাসরি রোদ ঠেকাতে পর্দা বা ব্ল্যাকআউট ব্লাইন্ড ব্যবহার করলে কুলিংয়ের কার্যকারিতা বাড়ে এবং বিদ্যুৎ খরচ কমে।
নতুন এসি কেনার ক্ষেত্রে শুধু স্মার্ট বা এআই সুবিধা নয়, এনার্জি স্টার রেটিং কেও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, উচ্চ স্টার রেটিংয়ের একটি এসি অনেক সময় অতিরিক্ত ফিচারসমৃদ্ধ কম রেটিংয়ের এসির তুলনায় কম বিদ্যুৎ খরচ করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কোনো একক কৌশল নেই। সঠিক তাপমাত্রা, উপযুক্ত মোড, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং উচ্চ দক্ষতার এসি ব্যবহারের সমন্বয়েই বিদ্যুৎ বিল নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
এসি/আপ্র/০২/০৮/২০২৬