গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

বাংলাদেশ কারও দয়া নয়, সবার সমঅধিকার

সুখদেব কুমার সানা

সুখদেব কুমার সানা

প্রকাশিত: ১৬:৪১ পিএম, ০২ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ০৪:১১ এএম ২০২৬
বাংলাদেশ কারও দয়া নয়, সবার সমঅধিকার
ছবি

ফাইল ছবি

রাজধানীর কাকরাইলে সম্মিলিত সনাতন পরিষদ আয়োজিত ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও প্রতিনিধি সম্মেলনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা নিছক একটি রাজনৈতিক ভাষণ নয়; এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সামাজিক সহাবস্থানের প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বার্তা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ‘নিজেকে ছোট ভাববেন না’ এবং ‘এটা আমার অধিকার’ বলে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর আহ্বান আমাদের জাতীয় বাস্তবতায় গভীর তাৎপর্য বহন করে।

বাংলাদেশের সংবিধান কোনো নাগরিককে করুণার ভিত্তিতে অধিকার দেয় না; দেয় জন্মগত সমমর্যাদা। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, আদিবাসী-সবাই এই রাষ্ট্রের সমান অংশীদার। তাই কোনো সম্প্রদায়কে নিরাপত্তা, সম্পত্তি, ধর্মীয় স্বাধীনতা বা মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে ‘বিশেষ সুবিধাভোগী’ হিসেবে নয়, পূর্ণ অধিকারসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে দেখতে হবে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো এই অধিকার বাস্তবে নিশ্চিত করা।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশকে সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত আবাসভূমি হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং ধর্মের নামে বিভাজনের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। এই অবস্থান সময়োপযোগী। কারণ সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ কখনো কোনো জাতিকে শক্তিশালী করেনি; বরং রাষ্ট্রের ভেতরে অবিশ্বাস, ভয় ও সামাজিক দূরত্ব তৈরি করেছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আমাদের শেখায়-ধর্মীয় পরিচয় নয়, মানুষের স্বাধীনতার আকাঙক্ষই ছিল জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি।

তবে বাস্তবতা হলো, সময় সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, মন্দির ভাঙচুর, সম্পত্তি দখল, সামাজিক ভয়ভীতি এবং ধর্মীয় উসকানির ঘটনা আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়। এই প্রেক্ষাপটে শুধু শুভেচ্ছা বিনিময়, উৎসবে উপস্থিতি বা প্রতীকী সংহতি যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন দ্রুত বিচার, নিরপেক্ষ তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা। আইনের শাসন দৃশ্যমান না হলে নিরাপত্তার অনুভূতিও স্থায়ী হয় না।

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে গণতন্ত্র দুর্বল হলে মানুষের পারস্পরিক ও ধর্মীয় অধিকারও দুর্বল হয়ে পড়ে বলে যে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন, সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃতপক্ষে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা ছাড়া কোনো বহুত্ববাদী রাষ্ট্র দীর্ঘস্থায়ী স্থিতি অর্জন করতে পারে না। ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রশ্নকে তাই গণতান্ত্রিক সংস্কার থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখার সুযোগ নেই।

তিনি যে ‘রঙধনু রাষ্ট্র’-এর কথা বলেছেন-অর্থাৎ সব ধর্ম, মত ও সম্প্রদায়ের সমমর্যাদার বাংলাদেশ-সেটি কেবল একটি রাজনৈতিক স্লোগান হয়ে থাকলে চলবে না। এর বাস্তব রূপ হতে হবে শিক্ষা, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা, স্থানীয় সরকার ও জাতীয় প্রতিনিধিত্বে। সংরক্ষিত নারী আসনে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও তা হতে হবে আরো বিস্তৃত ও কার্যকর অংশগ্রহণের সূচনা।

আজকের বাংলাদেশে সবচেয়ে জরুরি বার্তা হলো-কোনো নাগরিক যেন নিজের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে ভয়, সংকোচ বা অনিশ্চয়তায় না ভোগেন। রাষ্ট্রের শক্তি সংখ্যাগরিষ্ঠতার অহংকারে নয়; দুর্বলতম নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতায়। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাকরাইলের বক্তব্য সেই মৌলিক সত্যটিকেই নতুন করে সামনে এনেছে।

আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে অধিকার চাইতে কাউকে মাথা নত করতে হবে না; যেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বী হোক বা অন্য যে কোনো সম্প্রদায়ের মানুষ নির্ভয়ে বলতে পারবেন-এই দেশ আমার, এই রাষ্ট্র আমার, এই অধিকারও আমার। কারণ বাংলাদেশ কারও দয়া নয়; এটি সবার সমঅধিকার, সমমর্যাদা ও সমান নিরাপত্তার মানবিক অঙ্গীকার।
সানা/আপ্র/০২/৮/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

নির্ধারিত দামে এলপিজি নিশ্চিত করুন, ভোক্তাকে জিম্মি করা বন্ধ হোক
১৪ অক্টোবর ২০২৬

নির্ধারিত দামে এলপিজি নিশ্চিত করুন, ভোক্তাকে জিম্মি করা বন্ধ হোক

জ্বালানি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য উপকরণ। অথচ সরকার নির্ধারিত দামেও যদি রান্নার গ্যাস না মেল...

প্রবাসীর প্রাণ, আঞ্চলিক শান্তি ও মানবিক নিরাপত্তার কঠিন পরীক্ষা
১৩ অক্টোবর ২০২৬

প্রবাসীর প্রাণ, আঞ্চলিক শান্তি ও মানবিক নিরাপত্তার কঠিন পরীক্ষা

প্রবাসে উপার্জিত অর্থ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে, অসংখ্য পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখে। অথচ সেই উপার্জ...

রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি, অসহিষ্ণুতার অশনিসংকেত
১২ অক্টোবর ২০২৬

রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি, অসহিষ্ণুতার অশনিসংকেত

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি...

বন্দরের নিয়ন্ত্রণে জাতীয় স্বার্থ, চুক্তিতে চাই পূর্ণ স্বচ্ছতা
১০ অক্টোবর ২০২৬

বন্দরের নিয়ন্ত্রণে জাতীয় স্বার্থ, চুক্তিতে চাই পূর্ণ স্বচ্ছতা

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পরিচয় যা-ই হোক, চাঁদাবাজ-দখলদারদের ছাড় নয়: ডিএমপি কমিশনার

চাঁদাবাজ, ভূমি দখলবাজ ও মাদক কারবারে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় বা অবস্থান বিবেচনা না করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ। এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ডিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এসব নির্দেশনা দেন কমিশনার। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন- কমিশনার যে নির্দেশনা দিয়েছেন, পুলিশ সদস্যরা তা বাস্তবে তা করতে পারবেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে