মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে আবারো শুরু হচ্ছে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের আয়োজন। প্রথম আসরে দেড় লাখের বেশি খেলোয়াড় অংশ নিলেও দ্বিতীয় আসরে নিবন্ধনের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৬ লাখ। তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনার এ উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ইতিবাচক ফল পাওয়ার আশা করছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকালে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সম্মেলন কক্ষে ক্রীড়া সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তিনি। আমিনুল হক জানান, দ্বিতীয় আসরে ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়ন থেকে প্রতিযোগিতা শুরু হবে। এবার মোট নিবন্ধন করেছেন ১৬ লাখ ২৩ হাজার খেলোয়াড়। তাঁদের মধ্যে ৯ লাখ কিশোর এবং ৬ লাখ কিশোরী। দ্বিতীয় আসরে টেবিল টেনিস ও ভলিবল যুক্ত হওয়ায় মোট ডিসিপ্লিনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০টিতে।
প্রথম আসরে স্বল্প সময়ের মধ্যে নিবন্ধন করেছিলেন ১ লাখ ৬৮ হাজার খেলোয়াড়। তবে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন দেড় লাখ খেলোয়াড়। তাঁদের মধ্য থেকে ৩০৬ জন প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদকে চিহ্নিত করেছে মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে তাঁদের বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ৪০ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
দেশের একমাত্র ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকেএসপিতে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতেই কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হয়। সেখানে নতুন করে তিন শতাধিক প্রতিভাবান খেলোয়াড় যুক্ত হওয়ায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে আমিনুল হক বলেন, ‘আঞ্চলিক বিকেএসপির সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর জন্য চেষ্টা করছি। ফুটবলে মিন্টু ভাইয়ের মতো কোচ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অন্য খেলাগুলোতেও ভালো মানের কোচ নিয়োগ দেওয়া হবে, যেন ভালো খেলোয়াড় বেরিয়ে আসে।’
জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক ক্রীড়াঙ্গনে রাতারাতি সাফল্য চান না। তাঁর মতে, তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় তুলে আনার এ উদ্যোগ নিয়মিত চালিয়ে যেতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে সুফল পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মাধ্যমে মেধাবী খেলোয়াড়রা আসছে। এই ধারাবাহিকতা থাকলে আগামী পাঁচ বছর পর আমরা ক্রীড়াঙ্গনে এর সুফল পাব।’
ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলায় জেলা পর্যায় থেকেই প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসেন। কিন্তু অনেক জেলায় খেলাধুলার উপযুক্ত পরিবেশ নেই। কোথাও আবার জেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটি নিয়ে স্থবিরতা রয়েছে। এসব সমস্যা কাটিয়ে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের ক্রীড়াঙ্গনকে সক্রিয় করার উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
আমিনুল হক বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা সিড মানি অনুমোদন দিয়েছেন ক্রীড়াঙ্গনের জন্য। সেখানে ফেডারেশনগুলো গুরুত্ব ও সম্ভাবনা অনুযায়ী অর্থ পাবে, তেমনি জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলো ৩ কোটি টাকা করে পাবে। কিছু দিনের মধ্যে এই বণ্টন শুরু হবে। ক্রীড়া ভাতা খেলোয়াড়রা পাচ্ছে না, সেই সমস্যাও সমাধান হচ্ছে সপ্তাহখানেকের মধ্যে। খেলোয়াড়রা একসঙ্গে তিন মাসের অর্থই পাবে।’
আগামী ৫ নভেম্বর খুলনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসর উদ্বোধন করবেন। খেলাধুলার প্রসারে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করে আমিনুল হক জানান, প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সরকারি খাসজমি খোঁজা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতি ইউনিয়নে আমরা তিন বিঘা জায়গার মতো মাঠ খুঁজছি। হাওর ও পার্বত্য অঞ্চলের জেলায় তিন বিঘা জায়গা পাওয়া সম্ভব নয়, সেখানে একটু কম হতে পারে। আমরা আপাতত সরকারি খাসজমিতে মাঠ করার চেষ্টা করছি। ভূমি অধিগ্রহণের চিন্তা নেই আপাতত।’
সানা/আপ্র/১৫/১০/২০২৬