ঢাকার ধানমন্ডিতে ফুটপাতে এক ব্যক্তিকে চড়-থাপ্পড় মারা ও কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনায় মারধরকারী খালিদ হাসানকে ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এর আগে মারধরের শিকার শহীদ আবদুল্লাহ আল মাসুদ ওরফে মাসুদ রানাকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দুইজনকেই কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে, ঘটনার সময় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ধানমন্ডি থানার সহকারী উপপরিদর্শক আবদুল হাইকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
গত সোমবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে ধানমন্ডির সাতমসজিদ সড়কে বেসরকারি বাংলাদেশ আই হসপিটালের কাছে এ ঘটনা ঘটে। ফুটপাতে এক ব্যক্তিকে চড়-থাপ্পড় মারা এবং কান ধরে ওঠবস করানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, সড়কের পাশে বসে থাকা এক ব্যক্তিকে আরেকজন চড়-থাপ্পড় মারছেন। এ সময় মারধরকারীকে বলতে শোনা যায়, “মেয়ের গায়ে হাত দিয়েছিস, তোর মা বোন নেই।”
ওই তরুণীর অভিযোগ, মাসুদ তাঁর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়েছিলেন। তিনি পুলিশকে বিষয়টি জানালেও তাঁকে গ্রেফতারে অনীহা দেখানো হয়। পরে ফোন করে আত্মীয় খালিদ হাসানকে ডেকে আনেন তিনি। খালিদ এসে মাসুদকে মারধর করেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পরপরই ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে ধানমন্ডি থানা-পুলিশ মাসুদকে গ্রেফতার করে। ওই তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে আদালতে পাঠানো হলে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করার পর মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিশেষ মহানগর হাকিম আদালত এ সাজা দেন বলে জানান ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব।
এদিকে, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে এলে মারধরকারীকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ধানমন্ডির মীনাবাজার এলাকা থেকে ৩৫ বছর বয়সী খালিদ হাসানকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁকে রমনা জোনের বিশেষ মহানগর হাকিম আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাঁকে ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতের হাকিম মো. ইমরান আহমেদ জানান, বাংলাদেশ আই হসপিটালের বিপরীতে মাসুদকে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করানোর কথা স্বীকার করেছেন খালিদ। এরপর তাঁকে ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব বলেন, খালিদ হাসান একজন গ্রাফিক ডিজাইনার। তাঁর বাসা মিরপুরে। অন্যদিকে, মাসুদের বাসা মোহাম্মদপুরে। তিনি কোনো পেশায় যুক্ত নন।
ধানমন্ডি জোনের সহকারী কমিশনার সাদ্দাম হোসাইন বলেন, ঘটনার পরপরই মাসুদকে গ্রেফতার করা হয়। পরের দিন তাঁকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে পাঠানো হয়। তাঁর কোনো পেশা নেই। তবে তিনি মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন।
ঘটনার সময় পুলিশের সদস্যদের নীরব ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ওঠে। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সহকারী উপপরিদর্শক আবদুল হাইকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনের কথা ছিল তাঁর। তবে সেখানে উপস্থিত দাঙ্গা দমন বিভাগের অন্য দুই পুলিশ সদস্যের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
সানা/আপ্র/১৫/১০/২০২৬